বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
ব্রেকিং
ধর্ম

রাজীব আশরাফের স্মৃতিতে 'হোক কলরব' আন্দোলনের গুরুত্ব

রাজীব আশরাফের 'হোক কলরব' আন্দোলন ও তার স্মৃতি আজও ছাত্র সমাজে জীবিত।

রাজীব আশরাফের স্মৃতিতে 'হোক কলরব' আন্দোলনের গুরুত্ব

রাজীব আশরাফের লেখা 'হোক কলরব' আন্দোলন ২০১৪ সালে ভারতের যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে শুরু হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রীর বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির অভিযোগ ওঠে, কিন্তু কর্তৃপক্ষ যথাযথ ব্যবস্থা নেয়নি বলে অভিযোগ। এই ঘটনার পর ছাত্রছাত্রীরা 'হোক কলরব' স্লোগানে প্রতিবাদে মুখর হয়ে ওঠে।

তিনদিন পর, মধ্যরাতে পুলিশের লাঠিচার্জে গুরুতর জখম হয় ছাত্ররা। গণমাধ্যম এবং সোশাল মিডিয়ায় এই ঘটনার সংবাদ ছড়িয়ে পড়লে, আন্দোলন আরও বেগবান হয়। দিল্লি, মুম্বাই, বেঙ্গালুরুসহ বিভিন্ন শহরে প্রতিবাদ ছড়িয়ে পড়ে। 'হোক কলরব' শব্দবন্ধটি ছাত্র আন্দোলনের শাশ্বত স্লোগানে পরিণত হয়।

রাজীব আশরাফের কাছে অসংখ্য ফোনকল আসে, তার লেখা লিরিকের অর্থ জানতে। তিনি ছাত্রদের অনুভূতির গ্রাফিতিকে সম্মান জানিয়ে গানের অন্তরালের গল্প খোলাসা করেননি। ফরমায়েশি লিরিক লেখা তার পছন্দ ছিল না। তিনি নিজের মতো করে কবিতা লিখতে চাইতেন, যাতে পাঠক নিজস্ব কল্পনায় উপমা তৈরি করতে পারে।

রাজীবের কবিতার বই 'ধরেছি রহস্যাবৃত মহাকাল' প্রকাশিত হয়। তার লেখায় কঠিন শব্দ ব্যবহার করে তিনি ফরমায়েশি লেখা এড়িয়ে যান। 'পুনর্জন্ম' কবিতায় তিনি কিছুটা ইঙ্গিত দেন যে, স্মৃতিহীন পথিকের প্রতিটি পথই নতুন।

১ সেপ্টেম্বর, ২০২৩ সালে শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায় ৩৮ বছর বয়সে রাজীব আশরাফের মৃত্যু হয়। তার অবদান এবং স্মৃতি আজও ছাত্র সমাজে জীবিত রয়েছে। রাজীব আশরাফের নাম আজও মনে রাখা হয় বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে এবং আন্দোলনে।

"রাজীব হয়ে গেছেন অধিকার আদায়ের আন্দোলনের সমার্থক শব্দ।"
বিজ্ঞাপন