আজ ৫ আগস্ট, ২০২৬। দুই বছর আগে এই দিনে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে অবসান ঘটে ১৬ বছরের আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনের। আন্দোলনের মুখে দেশ ছাড়েন তৎকালীন সরকারপ্রধানসহ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা। দীর্ঘ ৩৬ দিনের আন্দোলনে প্রাণ হারান সহস্রাধিক মানুষ।
রাজধানী ঢাকায় ভোর থেকে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছিল। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজিরবিহীন সতর্কতা লক্ষ্য করা যায়। ঢাকার প্রবেশমুখগুলো, বিশেষ করে যাত্রাবাড়ী, গাবতলী ও আবদুল্লাহপুরসহ অন্যান্য প্রধান সংযোগস্থল ভারী কাঁটাতারের বেষ্টনী দিয়ে অবরুদ্ধ করা হয়। রাস্তায় চলাচল ছিল না, শুধু কিছু অ্যাম্বুলেন্স ও সংবাদমাধ্যমের গাড়ি চলাচল করছিল।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, গণভবন, বঙ্গভবন ও শাহবাগে নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল নিশ্ছিদ্র। জরুরি সেবায় নিয়োজিত ব্যক্তিদেরও পুলিশ ও সেনাবাহিনীর কড়া চেকিংয়ের মুখোমুখি হতে হয়। কিছু আবাসিক এলাকায় মাইকিং করে বাসিন্দাদের ঘরের ভেতরে থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়।
বেলা ১১টার দিকে রাজধানীর উত্তরার বিএনএস সেন্টারের সামনের রাস্তায় হাজার হাজার শিক্ষার্থী ও জনতা জড়ো হয়। সেনাবাহিনীর মাইকিং, গুলি ও কাঁটাতার দিয়ে মোড়ানো ব্যারিকেডের বিরুদ্ধে জনস্রোত এগিয়ে যেতে থাকে। বিভিন্ন বয়সের নারীরাও ছাত্রদের সাথে যোগ দেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনার এলাকায় পুলিশ টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড ছুড়ে। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা প্রতিবাদী র্যালি নিয়ে বের হন। দুপুর ১১টার পর হাজার হাজার ছাত্র-জনতার ঢলে পুলিশ পিছু হটতে বাধ্য হয়।
জুলাই আন্দোলনের কেন্দ্রবিন্দু ছিল রামপুরা-বনশ্রী। সকাল ১০টার পর থেকে বাসিন্দারা বিভিন্ন গলিতে জড়ো হতে থাকেন। মোবাইল ও ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সেবা বিচ্ছিন্ন থাকলেও জনতার স্রোত বাড়তে থাকে। পুলিশ বাধার মুখে পড়ে।
যাত্রাবাড়ীতে পুলিশ নির্বিচারে গুলি চালায়। এই সহিংসতায় ৫৫ জনের বেশি মানুষ মারা যায়। পুলিশ ও আনসারদের বিরুদ্ধে বিক্ষোভকারীরা হামলা ও ভাংচুর করে। দুপুর ২টায় ভাষণ দেওয়ার কথা থাকলেও সেনাপ্রধান বিকেল ৩টায় নিশ্চিত করেন যে শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন।