বৃহস্পতিবার, ০৬ আগস্ট, ২০২৬
ব্রেকিং
ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি, প্রাণহানি বেড়ে ৯৫ মাগুরায় সাকিব আল হাসানের বাড়ির গেটে আগুন ও ককটেল হামলা রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় কেঁপে উঠল কিয়েভ, নিহত ১৭ দুবাইয়ে ২০ মিনিটে ৭টি বিস্ফোরণের ঘটনা ইউক্রেনে রুশ হামলায় ১৭ জন নিহত, আহত ৪৫ রাশিয়ার হামলায় ১৭ জন নিহত, ইউক্রেনের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধক অভাব গাজায় ইসরায়েলি হামলার ধ্বংসস্তূপ থেকে ১১২ মরদেহ উদ্ধার, ৪০ শিশু অন্তর্ভুক্ত নেত্রকোণায় কনটেন্ট ক্রিয়েটর রিপন মিয়ার বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ খাগড়াছড়িতে শিক্ষার্থী ধর্ষণের অভিযোগে যুবক আটক রাশিয়ার সৈকতে ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় নিহত ৭, আহত ৪০
ধর্ম

গাজায় ইসরায়েলি হামলার ধ্বংসস্তূপ থেকে ১১২ মরদেহ উদ্ধার, ৪০ শিশু অন্তর্ভুক্ত

গাজায় ইসরায়েলি হামলার ধ্বংসস্তূপ থেকে ৪০ শিশুসহ ১১২ মরদেহ উদ্ধার, ১৫৭ জন এখনও চাপা রয়েছে।

গাজায় ইসরায়েলি হামলার ধ্বংসস্তূপ থেকে ১১২ মরদেহ উদ্ধার, ৪০ শিশু অন্তর্ভুক্ত

গাজার একটি আবাসিক ভবনের ধ্বংসস্তূপ থেকে দুই বছরেরও বেশি সময় পর ৪০ শিশুসহ ১১২ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) ফিলিস্তিনি পরিবারগুলো তাদের প্রিয়জনদের দাফন করে।

২০২৩ সালের নভেম্বরে গাজা সিটির একটি আবাসিক এলাকায় ইসরায়েলি বিমান হামলায় ধ্বংস হওয়া ভবনের ধ্বংসস্তূপ থেকে এসব মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এই ঘটনাটি গাজায় চলমান যুদ্ধের পর অন্যতম বড় গণদাফন হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।

এছাড়া, আরও অন্তত ১৫৭ জনের মরদেহ এখনও ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে আছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের নেতৃত্বে ইসরায়েলে হামলার পর গাজায় ইসরায়েলি সামরিক অভিযান শুরু হয়।

সেভ দ্য চিলড্রেনের মধ্যপ্রাচ্য, উত্তর আফ্রিকা ও পূর্ব ইউরোপ অঞ্চলের পরিচালক আহমাদ আলহেন্দাওয়ি জানান, গাজায় আজ হৃদয়বিদারক দৃশ্য দেখা যাচ্ছে। তিনি বলেন, “কোনো পরিবারকে সন্তানের মৃত্যু সহ্য করার পর আবার তার মরদেহ দাফন করতে না পারার যন্ত্রণায় ভোগা উচিত নয়।”

তিনি ইসরায়েলের আরোপ করা বিধিনিষেধের কারণে মরদেহ উদ্ধারে বিলম্বের কথা উল্লেখ করেন। আলহেন্দাওয়ি বলেন, “ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ এখনও উদ্ধার ও অনুসন্ধানকারী দলগুলোর প্রবেশে বাধা দিচ্ছে।”

গাজায় শিশুদের ওপর ইসরায়েলি সামরিক অভিযানের ভয়াবহ প্রভাব প্রতিফলিত হয়েছে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার তথ্যে। গাজার স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে এ পর্যন্ত অন্তত ২১ হাজার শিশু নিহত হয়েছে।

জাতিসংঘের স্বাধীন তদন্ত কমিশন জানিয়েছে, ইসরায়েলি নিরাপত্তা বাহিনী ইচ্ছাকৃতভাবে ফিলিস্তিনি শিশুদের লক্ষ্যবস্তু করেছে। কমিশনের চেয়ারম্যান শ্রীনিবাসন মুরালিধর বলেন, “প্রমাণ বলছে, যুদ্ধবিরতি ও আন্তর্জাতিক আইনে ফিলিস্তিনি শিশুদের সুরক্ষা পাওয়ার কথা, কিন্তু ইসরায়েল তা উপেক্ষা করছে।”

গাজার পরিস্থিতি একটি পরিবারের ভেঙে পড়ার গল্প। মধ্য গাজার চার সন্তানের মা মাইসা ইউসুফ জানান, যুদ্ধের কারণে তার সন্তানদের সামাজিক জীবন ধ্বংস হয়ে গেছে। তিনি বলেন, “এত মানুষ নিহত হওয়ায় শিশুদের জীবনে হারানোর বিষয়টি এখন বিশাল এক বাস্তবতা।”

গাজার অনেক শিশুকে পরিবারের টিকে থাকার জন্য বড়দের দায়িত্ব নিতে হচ্ছে। লন্ডনের সিটি সেন্ট জর্জ’স ইউনিভার্সিটির বিশেষজ্ঞ কাউন্সেলিং সাইকোলজিস্ট ডা. জিদা আলহাকিম বলেন, “বেঁচে থাকাটাই যখন একটি শিশুর পূর্ণকালীন দায়িত্বে পরিণত হয়, তখন এমনটাই ঘটে।”

বিজ্ঞাপন