গাজার শিশুরা বর্তমানে ক্ষুধার সঙ্গে লড়াই করছে। ২০২৫ সালের দুর্ভিক্ষের ধকল কাটিয়ে উঠতে না উঠতেই নতুন করে খাদ্য সংকটের শঙ্কা তৈরি হয়েছে। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, গাজার একটি বড় অংশ এখন চরম খাদ্য নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে রয়েছে, যা আবারও দুর্ভিক্ষের দিকে নিয়ে যেতে পারে।
গত তিন বছর ধরে চলা যুদ্ধে গাজার জনজীবন বিপর্যস্ত হয়েছে। যদিও গত অক্টোবরে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হয়েছিল, তবে ইসরায়েলি হামলা থামেনি। এই অবস্থায় মানবিক সহায়তা পৌঁছানো নিয়েও সংকট দেখা দিয়েছে। বহু ফিলিস্তিনি যুদ্ধে ঘর-বাড়ি হারিয়ে জরাজীর্ণ তাঁবুতে বসবাস করছে।
জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা বিষয়ক সংস্থা ওসিএইচএ জানাচ্ছে, গাজায় ভয়াবহ খাদ্য সংকট তৈরি হয়েছে। উপত্যকার প্রায় ৬৭ শতাংশ মানুষ খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে এবং ২ লাখের বেশি মানুষ এমন অবস্থায় রয়েছে যা দুর্ভিক্ষ ঘোষণার আগের পরিস্থিতি হিসেবে বিবেচিত হয়।
খাদ্য সংকটের সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়েছে শিশুদের ওপর। দীর্ঘদিন পর্যাপ্ত ও পুষ্টিকর খাবার না পাওয়ায় অনেক শিশু দুর্বল হয়ে পড়েছে এবং তাদের শারীরিক সক্ষমতা কমেছে। পুষ্টি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অপুষ্টিতে ভোগা শিশুদের সুস্থভাবে বেড়ে উঠতে শুধু খাবারের পরিমাণ বাড়ালেই হবে না, প্রয়োজন সুষম ও পুষ্টিকর খাদ্য।
যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজার খাদ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের জন্য প্রয়োজনীয় খাবার সংগ্রহ করা আরও কঠিন হয়ে উঠেছে। দীর্ঘদিনের অবরোধ ও সরবরাহ সংকট পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে।