ভারতের রাজধানী দিল্লিতে বর্ষা মৌসুমে 'এইচ-১ এন-১' বা সোয়াইন ফ্লু'র সংক্রমণ বৃদ্ধি পাচ্ছে। দিল্লি সরকারের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে ১ হাজার ৩শ' ৪৯ জনের শরীরে 'এইচ-১ এন-১' ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে।
সংক্রমণ বাড়লেও হাসপাতালগুলো পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত রয়েছে বলে দাবি করেছে কর্তৃপক্ষ। 'এইচ-১ এন-১' ও ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসার জন্য আলাদা ওয়ার্ড এবং নির্দিষ্ট কক্ষ প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
গত কয়েক সপ্তাহে দিল্লির বিভিন্ন হাসপাতালে সর্দি, কাশি ও জ্বরে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। চিকিৎসকরা প্রতিদিন উল্লেখযোগ্য সংখ্যক রোগীকে ফ্লু'র মতো উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসা দিচ্ছেন। গুরগাঁওয়ের ফোর্টিস মেমোরিয়াল রিসার্চ ইনস্টিটিউটের ইন্টারনাল মেডিসিন বিভাগের প্রধান ডাক্তার সতীশ কৌল জানান, গত তিন থেকে চার সপ্তাহে কাশি, সর্দি ও উচ্চ জ্বরের উপসর্গ নিয়ে আসা রোগীর সংখ্যা বেড়েছে।
তিনি বলেন, পরীক্ষায় 'এইচ-১ এন-১' আক্রান্তের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে এবং প্রতিদিন বহির্বিভাগে প্রায় ৭ থেকে ১০ জন 'এইচ-১ এন-১' রোগী পাওয়া যাচ্ছে। একই সময়ে, দিল্লিতে করোনাভাইরাসের সংক্রমণেও সামান্য বৃদ্ধি দেখা গেছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দিল্লির বিভিন্ন এলাকায় ফ্লু'র মতো উপসর্গে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা বাড়ার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে। চিকিৎসকরা বলছেন, অধিকাংশ 'এইচ-১ এন-১' সংক্রমণ মৃদু প্রকৃতির এবং সাধারণত তিন থেকে পাঁচ দিনের মধ্যে উপসর্গ কমে আসে।
সোয়াইন ফ্লুতে আক্রান্ত হলে সাধারণত শরীর ও পেশিতে ব্যথা, নাক দিয়ে পানি পড়া, বমি বমি ভাব, বমি বা ডায়রিয়ার মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে। গুরুতর লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
চিকিৎসকরা 'এইচ-১ এন-১' সংক্রমণের আকস্মিক বৃদ্ধির পেছনে আবহাওয়ার পরিবর্তনকে অন্যতম কারণ হিসেবে দেখছেন। বর্ষা মৌসুমে তাপমাত্রার দ্রুত ওঠানামার কারণে ফ্লুর প্রকোপ বাড়তে পারে বলে মনে করছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।
তবে উপসর্গ দেখা দিলেই আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই, অধিকাংশ আক্রান্তের ক্ষেত্রেই রোগটি মৃদু থাকে। কিন্তু জ্বর, কাশি বা শ্বাসকষ্টের মতো উপসর্গ দীর্ঘস্থায়ী হলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া উচিত।