বিশ্বের বৃহত্তম বহুপাক্ষিক সংস্থা জাতিসংঘ বর্তমানে একাধিক সংকটের সম্মুখীন। যুদ্ধ, ভেটো রাজনীতি, অর্থ সংকট এবং শক্তিশালী দেশগুলোর বিভাজনের কারণে সংস্থাটির কার্যকারিতা দুর্বল হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে জাতিসংঘের ভবিষ্যৎ ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
বিশ্বনেতারা যখন নিউইয়র্কে জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ অধিবেশনে মিলিত হচ্ছেন, তখন ইউক্রেন যুদ্ধ, গাজা সংঘাত এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনা নিয়ে জাতিসংঘের কার্যকর ভূমিকা সম্পর্কে উদ্বেগ প্রকাশ করা হচ্ছে।
জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের অচলাবস্থা অন্যতম প্রধান চ্যালেঞ্জ। যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, চীন, যুক্তরাজ্য এবং ফ্রান্সের ভেটো ক্ষমতার কারণে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। উদাহরণস্বরূপ, ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়ার ভেটো এবং গাজা ইস্যুতে নিরাপত্তা পরিষদের বিভাজন জাতিসংঘের কার্যকারিতাকে সীমাবদ্ধ করে দিচ্ছে।
গাজা যুদ্ধ জাতিসংঘের সক্ষমতার সীমাবদ্ধতাকে আরও স্পষ্ট করেছে। যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান জানানো সত্ত্বেও, সংস্থাটি কার্যকর পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়েছে।
অন্যদিকে, ইরানকে ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা আঞ্চলিক নিরাপত্তার পাশাপাশি বৈশ্বিক অর্থনীতি ও জ্বালানি বাজারেও প্রভাব ফেলছে।
অর্থ সংকটও জাতিসংঘের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। যুক্তরাষ্ট্রের মতো বড় দাতাদের অর্থ সহায়তা কমানো এবং বকেয়া অর্থ নিয়ে অনিশ্চয়তা জাতিসংঘের ত্রাণ ও শান্তিরক্ষা কার্যক্রমকে বিপর্যস্ত করছে।
বিশ্বের বড় শক্তিগুলো ব্রিকস ও অন্যান্য বিকল্প জোটে সক্রিয় হওয়ার কারণে জাতিসংঘের প্রাসঙ্গিকতা রক্ষা করা আরও কঠিন হচ্ছে। নতুন মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেসের পর কার্যকর নেতৃত্বের দাবি এখন সবচেয়ে জোরালো।
জাতিসংঘকে কার্যকর রাখতে প্রয়োজন আর্থিক স্বাধীনতা, ভেটো ব্যবস্থায় আরও জবাবদিহিতা এবং শক্তিশালী নেতৃত্ব। ১৯৩টি দেশের একমাত্র বৈশ্বিক আলোচনার মঞ্চ হিসেবে জাতিসংঘের গুরুত্ব অপরিসীম, তবে এর ভবিষ্যৎ পরিবর্তনের সক্ষমতার ওপর নির্ভর করছে।