কলম্বিয়া ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করার ঘোষণা দিয়েছে। বৃহস্পতিবার দেশটির সরকার এ সিদ্ধান্তের কথা জানায় বলে বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
এটি লাতিন আমেরিকায় যুক্তরাষ্ট্রের আরেক মিত্রের মাধ্যমে ওয়াশিংটনের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক বিচ্ছেদের ঘটনা। তবে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করলেও কলম্বিয়া ইরানের সঙ্গে কনস্যুলার বা নাগরিকসেবা-সংক্রান্ত যোগাযোগ বজায় রাখবে।
কলম্বিয়ার নতুন ডানপন্থী প্রেসিডেন্ট আবেলার্দো দে লা এসপ্রিয়েলা ক্ষমতায় আসার পর দেশটির বৈদেশিক নীতিতে বড় পরিবর্তন আনছেন। গত ৭ আগস্ট বামপন্থী সাবেক প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রোর কাছ থেকে ক্ষমতা নেওয়ার পর থেকে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমর্থন পাচ্ছেন।
ক্ষমতা গ্রহণের আগেই দে লা এসপ্রিয়েলা কিউবা ও নিকারাগুয়ার মতো বামপন্থী সরকারের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করার পরিকল্পনা প্রকাশ করেছিলেন। কিন্তু তিনি এখনো ওই দুই দেশের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করেননি।
কলম্বিয়ার সরকার জানায়, ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করার সিদ্ধান্তটি ১৯ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হয়েছে। সরকারের বক্তব্য অনুযায়ী, ‘এই অঞ্চলের জাতীয় নিরাপত্তা’ বিবেচনায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
কলম্বিয়ার সরকার ইরান সরকারের বিরুদ্ধে দেশটির নিরাপত্তার জন্য হুমকি তৈরি করা ‘মাদক-সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর’ সঙ্গে সম্পর্ক থাকার অভিযোগ করেছে। তবে অভিযোগের পক্ষে কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি।
এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের চলমান যুদ্ধে তেহরানের ভূমিকারও সমালোচনা করেছে বোগোতা। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিতে নৌযান চলাচলে বাধা সৃষ্টি এবং মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশে হামলার জন্য ইরানকে দায়ী করেছে কলম্বিয়ার সরকার।