যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী ইরানের ড্রোন হুমকি মোকাবিলায় অত্যাধুনিক লেজার অস্ত্র ব্যবহার শুরু করেছে। এই প্রযুক্তি তৈরিতে মার্কিন সরকার প্রায় ৫০০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, লেজার অস্ত্রের মাধ্যমে ড্রোন ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করা সম্ভব, যা প্রচলিত ক্ষেপণাস্ত্রের তুলনায় অনেক কম খরচে হয়।
সম্প্রতি ইরানের নাগরিকেরা আকাশে লেজারের আলোর দৃশ্য দেখতে পান, যা আসলে মার্কিন সামরিক বাহিনীর কার্যক্রমের অংশ। সেন্টকম জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে ইরানের সামরিক সরঞ্জাম ধ্বংস করা হচ্ছে।
লেজার অস্ত্রের কার্যপ্রণালী সম্পর্কে জানা যায়, এটি শক্তিকে আলোককণায় রূপান্তর করে এবং একটি শক্তিশালী রশ্মিতে কেন্দ্রীভূত করে। লক্ষ্যবস্তুর ওপর নির্দিষ্ট সময় ধরে লেজার রশ্মি স্থির রেখে তাপমাত্রা বাড়ানো হয়, যা বস্তুটিকে গলিয়ে বা বিস্ফোরিত করে ধ্বংস করতে সক্ষম।
ডিরেক্টেড এনার্জি কনসালট্যান্টসের প্রেসিডেন্ট মার্ক নাইস বলেন, ‘আমরা খুব নির্দিষ্টভাবে ড্রোন শনাক্ত করতে পারি এবং লেজারের আলো ঠিক সেই জায়গায় ফেলতে পারি, যা ড্রোনের সেন্সর অকার্যকর করে।’
মার্কিন সেনারা এই লেজার অস্ত্র পরিচালনার জন্য পুনর্বিন্যাস করা এক্সবক্স গেম কনসোলের কন্ট্রোলার ব্যবহার করছে। কেলার বলেন, ‘ভিডিও গেম শিল্প থেকে উদ্ভাবিত কন্ট্রোলার দিয়ে কার্যক্রম চালানো সম্ভব।’
মেক্সিকোতে মাদক চক্রের ড্রোন ধ্বংসের জন্যও এই প্রযুক্তি পরীক্ষা করা হচ্ছে। আমেরিকান ফরেন পলিসি কাউন্সিলের ব্রেন্ট জিয়ারনিক বলেন, ‘লেজার দিয়ে ড্রোন ভূপাতিত করা এখন বাস্তবতা।’
বিশেষজ্ঞদের মতে, লেজার অস্ত্র যুদ্ধের কৌশল ও সামরিক সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আনতে পারে। তবে বর্তমানে ব্যবহার করা লেজার ব্যবস্থা বড় এবং ভারী হওয়ায় এগুলো যুদ্ধজাহাজে স্থাপন করতে হয়।
মার্কিন যুদ্ধমন্ত্রী পিট হেগসেথও লেজার অস্ত্র প্রযুক্তি নিয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন, যা সামরিক বাহিনীর সক্ষমতা বাড়াতে সহায়তা করবে।