২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি ঐতিহাসিক দিন হিসেবে চিহ্নিত হয়। ছাত্র আন্দোলন ও গণবিক্ষোভের ধারাবাহিকতায় এদিন ক্ষমতার নাটকীয় পরিবর্তন ঘটে, যা দেড় দশকের সরকারের পতনের দিকে নিয়ে যায়। কোটা সংস্কারের দাবিতে শুরু হওয়া আন্দোলন দ্রুত সরকারবিরোধী অভ্যুত্থানে রূপ নেয়।
এদিন ইতিহাসে প্রথমবারের মতো তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পালাতে বাধ্য হন। স্বৈরাচার ও ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের অংশ হিসেবে ছাত্র জনতা ২০২৪ সালের জুনে রাজপথে নেমে আসে। কোট সংস্কার আন্দোলনের তীব্রতায় সরকারের কটূক্তি আন্দোলনকে আরো উসকে দেয়।
সারাদেশে প্রতিবাদের ঝড় ছড়িয়ে পড়ে, এবং ছাত্রলীগের সশস্ত্র হামলার বিরুদ্ধে সর্বস্তরের মানুষ সোচ্চার হয়ে ওঠে। আন্দোলন দমনে সরকার গুলি চালানোর নির্দেশ দেয়, যার ফলে শহীদ হন অনেক তরুণ। ১৯ জুলাই কারফিউ জারি করে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয় এবং গণগ্রেপ্তার শুরু হয়।
৩ আগস্ট কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারের সমাবেশে স্বৈরাচার পতনের এক দফা ঘোষণা করা হয়। ৪ আগস্ট শহিদ হন শতাধিক মানুষ। ৫ আগস্ট রাজধানীর সব প্রবেশমুখে জনতার ঢল দেখে পালিয়ে যায় সরকারের পেটোয়া বাহিনী। যাত্রাবাড়ীতে পুলিশের গুলিতে ৩০ জনেরও বেশি শহীদ হন।
এক পর্যায়ে প্রাণ বাঁচাতে শেখ হাসিনা হেলিকপ্টারে ভারতে পালিয়ে যান। ৩৬ দিনের আন্দোলনে সহস্রাধিক প্রাণ ঝরে যায় এবং ১৪ হাজারের বেশি আহত হয়। স্বৈরাচার পতনের খবরে সারাদেশে বিজয় মিছিল শুরু হয় এবং নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখা শুরু হয়।