সোমবার, ৩১ আগস্ট, ২০২৬
ব্রেকিং
জাতীয়

নেপালের বন্যার প্রভাব বাংলাদেশে: বিশেষজ্ঞদের মতামত

নেপালের বন্যার প্রভাব বাংলাদেশে পড়বে কি না, বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন না।

নেপালের বন্যার প্রভাব বাংলাদেশে: বিশেষজ্ঞদের মতামত

নেপাল ও তিব্বতের বিস্তীর্ণ এলাকা ভয়াবহ বন্যায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। এর প্রভাব ভারতের বিহারেও লক্ষ্য করা যাচ্ছে। আকস্মিক এই বন্যার প্রভাব বাংলাদেশে পড়বে কি না, সেই প্রশ্ন উঠেছে।

বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, বর্তমানে বাংলাদেশের জন্য কোনো আশঙ্কা নেই। তবে আন্তঃসীমান্ত নদীর পানি প্রবাহের ওপর নজরদারি রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। গত ২৬ আগস্ট নেপাল-তিব্বত সীমান্তে হিমবাহ ধসে বরফ, পাথর, কাদা ও পানির প্রবল স্রোত নেমে আসে নদী উপত্যকায়, যার ফলে বসতি, সড়ক, সেতু ও অবকাঠামো ভেসে যায়।

গঙ্গা অববাহিকায় বাড়তি সতর্কতা জারি করা হয়েছে। নদীপথের হিসাব অনুযায়ী, নেপালের গণ্ডক বা নারায়ণী নদীর পানি ভারতে প্রবেশ করে গঙ্গায় মেশে এবং গঙ্গার প্রবাহ পশ্চিমবঙ্গ হয়ে বাংলাদেশে ঢোকে। তবে নেপালের আকস্মিক বন্যার প্রভাব সরাসরি বাংলাদেশে পড়বে, এমন কোনো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি।

বুয়েটের ইন্সটিটিউট অব ওয়াটার অ্যান্ড ফ্লাড ম্যানেজমেন্ট বিভাগের অধ্যাপক ড. মাশফেকুস সালেহীন বলেন, ‘গঙ্গা নদীতে বর্তমানে একটা স্থিতিশীল প্রবণতা আছে, যা আগামীতেও অব্যাহত থাকতে পারে। তবে মৌসুমী বৃষ্টিপাতের কারণে স্বাভাবিক বৃদ্ধির প্রবণতা লক্ষ্য করা যেতে পারে, কিন্তু বিপৎসীমা অতিক্রমের ঝুঁকি নেই।’

বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, নেপালের বিপর্যয়ের পর বাংলাদেশে নদ নদীর পানি এখনো তেমন বাড়েনি। বড় ধরনের বন্যার আশঙ্কা দেখা যাচ্ছে না, তবে সতর্ক থাকতে হবে।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী সরদার উদয় রায়হান জানান, ‘বিহারেই তেমন প্রভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। আমাদের দূরত্ব প্রায় সাড়ে ছয়শ কিলোমিটার, কাজেই এ ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগের প্রভাব বাংলাদেশে পড়ার আশংকা নেই।’

বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশে নজরদারি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নেপাল থেকে ভারতের বিহার হয়ে গঙ্গা এবং সেখান থেকে বাংলাদেশে পদ্মার পানি প্রবাহ নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখতে হবে।

বিজ্ঞাপন