বর্তমানে বাজারে অত্যাবশ্যকীয় ১১৭টি ওষুধের বেশিরভাগই পাওয়া যাচ্ছে না। প্রযুক্তির উন্নয়ন এবং মূল্য সমন্বয়ের অভাবে কিছু ওষুধের উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে সাধারণ মানুষকে উচ্চমূল্যে ওষুধ কিনতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।
রাজধানীর একটি সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রিকশাচালক আমির আলী জানান, চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশনের ভিত্তিতে কিছু ভিটামিনের ওষুধ পেলেও ব্যথার ওষুধটি মেলেনি। গাড়িচালক মেহেদীও একই সমস্যায় পড়েছেন। তিনি বলেন, বাইরে থেকে ওষুধ কিনতে ২ থেকে ৩ হাজার টাকা খরচ হবে, যা তার পক্ষে বহন করা কঠিন।
১৯৯৪ সালে সরকার ১১৭টি ওষুধের মূল্য নির্ধারণ করলেও আধুনিক ওষুধ প্রযুক্তির কারণে বর্তমানে তালিকায় থাকা ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপের ওষুধ এখন বাজারে নেই। এক ওষুধের দোকান ব্যবসায়ী জানিয়েছেন, কিছু ওষুধের কাঁচামালের সংকট রয়েছে, ফলে সেগুলো পাওয়া যাচ্ছে না।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. শাফিউন নাহিন শিমুল বলেন, নিয়ম অনুযায়ী প্রতি দুই বছর পরপর ওষুধের দাম সমন্বয় করা উচিত। কিন্তু বর্তমান বাজারে উৎপাদন খরচ বেড়েছে, অথচ দাম বৃদ্ধি হয়নি।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. মোশতাক হোসেন জানান, পুরোনো ওষুধ তৈরির প্রযুক্তি এখন সেকেলে হয়ে গেছে। বাজারে আধুনিক ওষুধের অভাব এবং ১৯৯৪ সালে নির্ধারিত দাম অনেক ক্ষেত্রে বর্তমান দামের তুলনায় বেশি।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নীতিমতে, অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের দাম মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে থাকা উচিত। বাংলাদেশে ওষুধের দাম মানুষের সামর্থ্য অনুযায়ী রাখা জরুরি, অন্যথায় অনেক মানুষ প্রয়োজনীয় ওষুধ কিনতে পারবে না।
অধ্যাপক শিমুল আরও বলেন, ওষুধের দাম নির্ধারণে মানুষের সামর্থ্য ও উৎপাদন খরচের মধ্যে ভারসাম্য রাখতে হবে। অন্যথায় রোগীরা সংকটে পড়বেন।
ডা. মোশতাক হোসেন বলেন, চিকিৎসা খরচের ৭০ থেকে ৮০ শতাংশই ওষুধ কেনা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষায় চলে যায়। এ কারণে সরকারসহ সংশ্লিষ্টদের একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, সার্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে ওষুধের দাম মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখা এবং বাজারে কার্যকর নজরদারি প্রয়োজন।