কিশোরগঞ্জের নিকলী উপজেলার গোড়াদিঘা ইউনিয়নে অবস্থিত দুর্গম হাওরগ্রামটিতে আধুনিক স্বাস্থ্যসেবা থেকে অনেক দূরে ছিল স্থানীয় নারীরা। সম্প্রতি, তাদের মধ্যে স্যানিটারি ন্যাপকিনের নামও অজানা ছিল। মাসিকের সময় পুরনো কাপড় ও অনিরাপদ উপকরণ ব্যবহার করতেন তারা, যা স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
‘নিরাপদ পিরিয়ড, সবার অধিকার’ উদ্যোগের আওতায় স্থানীয় নারীদের সচেতন করার লক্ষ্যে বিশেষ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। সান কমিউনিকেশনস লিমিটেডের পরিকল্পনায় ওএনজেড সলিউশনসের সহযোগিতায় এবং স্টেসেইফ স্যানিটারি ন্যাপকিনের উদ্যোগে এই কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
হাওরের প্রধান যাতায়াত মাধ্যম নৌকা হওয়ায় সচেতনতামূলক কার্যক্রমেও নৌকাকে ব্যবহার করা হয়েছে। বিশেষ ‘আনন্দ মেলা’ আয়োজন করা হয়, যেখানে নারীদের একত্রিত করে পিরিয়ডকালীন স্বাস্থ্যবিধি সম্পর্কে সচেতন করা হয়। মেলার অংশ হিসেবে নারীদের বিনামূল্যে স্যানিটারি ন্যাপকিন বিতরণ করা হয়।
স্থানীয় ফার্মেসির মালিক ও কর্মীদেরও পিরিয়ড ও স্যানিটারি প্যাড ব্যবহারের বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। অভিভাবকদের উদ্দেশ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য বিশেষ ব্যাগ বিতরণ করা হয়, যাতে নিরাপদ স্যানিটারি ন্যাপকিন ব্যবহারের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়।
গোড়াদিঘার স্কুলগুলোতেও সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের মধ্যে খোলামেলা আলোচনার পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে। বিশেষ ক্লাস ও উঠান বৈঠকের মাধ্যমে পিরিয়ড নিয়ে আলোচনা করা হচ্ছে।
স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. আবদুল মোতালিব জানান, আগে নারীদের মধ্যে সচেতনতা ছিল কম। তবে বর্তমানে ধারাবাহিক কার্যক্রমের মাধ্যমে পরিস্থিতি অনেকটাই বদলেছে। পল্লী চিকিৎসক আনোয়ার হোসেনও বলেন, এখন অধিকাংশ নারী পিরিয়ড ও স্যানিটারি প্যাড সম্পর্কে সচেতন।
বর্তমানে গোড়াদিঘার ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ মেয়ে স্যানিটারি প্যাড ব্যবহার করছে। এই পরিবর্তন শুধুমাত্র একটি পণ্য ব্যবহারের গল্প নয়, বরং নারীদের স্বাস্থ্যবোধ ও মর্যাদা ফিরে পাওয়ার গল্প।