একই পরিবারে বড় হওয়া কিংবা রক্তের সম্পর্কের আপনজনের মধ্যে বিয়ের ফলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জীবন কেমন হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। আমাদের সমাজে ‘কাজিন ম্যারেজ’ বা আপন খালাতো, মামাতো, চাচাতো ভাইবোনের মধ্যে বিয়ে একটি সাধারণ চিত্র। তবে আধুনিক বিজ্ঞান এবং চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরা এই বিষয়টি নিয়ে সতর্কবার্তা দিচ্ছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কাজিনদের মধ্যে বিয়ে স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে। ইতিহাসে দেখা যায়, বিখ্যাত ব্যক্তিরাও নিজেদের কাজিনদের মধ্যে বিয়ে করেছিলেন। তবে, জেনেটিক্সের অগ্রগতির সাথে সাথে এই প্রথা নিয়ে নতুন করে ভাবনার প্রয়োজন দেখা দিয়েছে।
আমেরিকার ব্র্যাডফোর্ড শহরে পরিচালিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, পাকিস্তানি বংশোদ্ভূতদের মধ্যে প্রায় অর্ধেকেরই সম্পর্ক চাচাতো, খালাতো বা মামাতো ভাইবোনের। চিকিৎসকদের মতে, রক্তের সম্পর্কযুক্ত দম্পতিদের মধ্যে সন্তানের বংশগত রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি সাধারণ দম্পতিদের তুলনায় দ্বিগুণ হয়ে দাঁড়ায়।
যুক্তরাজ্যের ‘বর্ন ইন ব্র্যাডফোর্ড’ গবেষণায় দেখা গেছে, ফার্স্ট কাজিনদের সন্তানদের মধ্যে কথা বলা এবং ভাষাগত সমস্যা হওয়ার আশঙ্কা ১১ শতাংশ, যা সাধারণ শিশুদের ক্ষেত্রে ৭ শতাংশ। এ ছাড়া, তাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও কম থাকে।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন যে, এন্ডোগামি বা অন্তর্গোত্র বিবাহও জেনেটিক ঝুঁকির একটি বড় কারণ। এটি মূলত যখন একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠী দীর্ঘ সময় ধরে নিজেদের মধ্যে বিয়ে করে, তখন তাদের জিনের বৈচিত্র্য নষ্ট হয়ে যায়।
বিশ্বজুড়ে এই স্বাস্থ্যঝুঁকি ও সামাজিক জটিলতার কারণে অনেক দেশ কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে। নরওয়ে গত বছর কাজিনদের মধ্যে বিয়ে নিষিদ্ধ করেছে এবং সুইডেনেও এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হতে যাচ্ছে। তবে, বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, সচেতনতা বাড়ানোই সবচেয়ে বড় হাতিয়ার।
গবেষণায় দেখা গেছে, গত ১০ বছরে কাজিনদের মধ্যে বিয়ের হার ৩৯ শতাংশ থেকে কমে ২৭ শতাংশে নেমে এসেছে। তরুণ সমাজ এখন পারিবারিক গণ্ডির বাইরে গিয়ে নিজেদের জীবনসঙ্গী বেছে নিচ্ছে।
সুতরাং, সম্পর্কের ক্ষেত্রে সামাজিক নিয়মের পাশাপাশি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সুস্থতা ও সুরক্ষার দায়িত্ব আমাদেরই।