বাংলাদেশ থেকে প্রতিবছর চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়া মানুষের সংখ্যা প্রায় ৯ থেকে ১০ লাখ। সরকারি গবেষণা ও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সংখ্যার মধ্যে অন্তত ৫ শতাংশ চিকিৎসকও রয়েছেন। বিদেশে চিকিৎসা নিতে যাওয়া রোগীরা বছরে প্রায় ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বা ৬০ হাজার কোটি টাকারও বেশি খরচ করছেন।
প্রায় ৫১ শতাংশ রোগী প্রতিবেশী দেশ ভারতকে চিকিৎসার জন্য বেছে নেন, অন্যদিকে ২০ শতাংশ যান থাইল্যান্ড ও সিঙ্গাপুরে। তবে সবচেয়ে চমকপ্রদ বিষয় হল, বিদেশে যাওয়া রোগীদের ৫২ শতাংশের বেশি বড় কোনো অপারেশনের জন্য যান না, বরং রোগনির্ণয় বা রুটিন স্বাস্থ্য পরীক্ষা করাতে যান।
রোগের তালিকায় ক্যানসার ও হৃদরোগ সবার উপরে রয়েছে। এছাড়া কিডনি, চোখের সমস্যা, হাড়ের জটিলতা এবং প্রজননজনিত সমস্যা উল্লেখযোগ্য। বিদেশে চিকিৎসা নিতে যাওয়া রোগীদের মধ্যে ২৫ শতাংশ ব্যবসায়ী এবং ১২.৫ শতাংশ বেসরকারি চাকরিজীবী।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থার উপর মানুষের আস্থা সংকটের পেছনে কয়েকটি কারণ রয়েছে। এর মধ্যে আস্থার সংকট, ভুল রোগনির্ণয়, ওয়ান-স্টপ সার্ভিসের অভাব, এবং চিকিৎসার খরচ উল্লেখযোগ্য।
বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, দক্ষিণ এশিয়ায় স্বাস্থ্য খাতে জিডিপির গড় বরাদ্দ ৩.৯ শতাংশ, যেখানে বাংলাদেশে এটি মাত্র ২.৩৪ শতাংশ। দুর্নীতি, চিকিৎসকদের রাজনৈতিক বিভক্তি এবং মানহীন বেসরকারি হাসপাতালে সেবার অভাবও সমস্যার কারণ।
সঙ্কট থেকে বের হওয়ার উপায় হিসেবে বিশেষজ্ঞরা স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বাড়ানো, দুর্নীতির সিন্ডিকেট ভেঙে ফেলা এবং সরকারি হাসপাতালগুলোতে মানসম্মত সেবার সুযোগ তৈরির পরামর্শ দিয়েছেন। দেশের ভিআইপি, রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী এবং মন্ত্রীদের দেশের হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার মানসিকতা তৈরি করা জরুরি।