ফরিদপুরের সমরিতা হাসপাতালে সিজারিয়ান অপারেশন শেষে পেটে প্রায় দেড় কেজি গজ রেখে সেলাই করার ঘটনায় কণিকা মণ্ডল নামের এক প্রসূতি নারী চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। গত ১৯ আগস্ট রাতে মৃত্যুর পর স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন নিহত কণিকার পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে যান।
শুক্রবার (২১ আগস্ট) সকাল ৯টার দিকে রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার বহরপুর ইউনিয়নের বাঘুটিয়া গ্রামে নিহত কণিকার স্বামী অশান্ত মণ্ডলের বাড়িতে গিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী পরিবারটির প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। এ সময় মন্ত্রী পরিবারটিকে ৫০ হাজার টাকা সহায়তা দেওয়ার পাশাপাশি মাতৃহারা শিশুটির পূর্ণ ভরণপোষণের দায়িত্ব সরকারের পক্ষ থেকে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন।
মন্ত্রী জানান, প্রসূতির মৃত্যুর ঘটনায় পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পর, এর ভিত্তিতে দায়ী চিকিৎসকের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, গত ১৭ বছরে হাসপাতালের আশপাশে গড়ে ওঠা অবৈধ ক্লিনিকগুলোর বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান ও আকস্মিক পরিদর্শন চলছে। কোনো অনিয়ম পাওয়া গেলে ক্লিনিক বন্ধসহ লাইসেন্স বাতিল করা হচ্ছে।
এ সময় রাজবাড়ীর জেলা প্রশাসক আফরোজা পারভীন, সিভিল সার্জন ডা. এসএম মাসুদ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সামসুল হক, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) তারিফ উল হাসান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা চৌধুরী মুস্তাফিজুর রহমানসহ রাজনৈতিক নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
গত ২৯ জুন ফরিদপুরের সমরিতা হাসপাতালে চিকিৎসক লক্ষ্মী রানী দত্তের মাধ্যমে কণিকা সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে কন্যাসন্তানের জন্ম দেন। পরদিন তার পেট ফুলে যায় এবং অবস্থার অবনতি হলে ৩ জুলাই তাকে ঢাকার ইবনে সিনা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ৭ জুলাই পরীক্ষায় তার পেটে গজ পাওয়া যায়।
৫২ দিন অসুস্থ থাকার পর কণিকা মণ্ডল মারা যান। মৃত্যুর পর চিকিৎসক লক্ষ্মী রানী দত্ত কনিকার স্বামীকে হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজে জানান, 'ভুল মানুষেরই হয়'। তবে পরিবারটি এই বক্তব্য মানতে অস্বীকৃতি জানিয়ে অভিযুক্ত চিকিৎসক ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেছে।