রোহিঙ্গা সংকটের ৯ বছর পূর্ণ হলো আজ। ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট মিয়ানমারের জান্তা সরকারের নির্যাতনের শিকার হয়ে বাংলাদেশে আসতে বাধ্য হয়েছিলেন প্রায় সাড়ে ৭ লাখ রোহিঙ্গা।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই সংকট সমাধানে বিশ্ব জনমত তৈরি করা অত্যন্ত জরুরি। তারা আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সহায়তায় রোহিঙ্গাদের সাময়িক স্থানান্তরের বিষয়েও আলাপ-আলোচনার গুরুত্ব তুলে ধরেছেন।
২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট, বিশ্ববাসীর কাছে মিয়ানমারে জাতিগত নিধনের পরিকল্পনার চিত্র স্পষ্ট হয়ে ওঠে। সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানের নামে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী শুরু করে হত্যা-ধর্ষণ ও গ্রাম জ্বালিয়ে দেওয়ার ঘটনা। এর ফলে ৭ লাখ রোহিঙ্গা কক্সবাজারে আশ্রয় নেন।
মিয়ানমারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত ৩১ জুলাই পর্যন্ত ঢাকার দেয়া তালিকার ৮ লাখ ২৮ হাজার ৮২৪ রোহিঙ্গার মধ্যে ৩ লাখ ৮ হাজার ৭৯৭ জনকে রাখাইনবাসী হিসেবে নিশ্চিত করেছে নেপিডো। তবে, সামরিক বাহিনী ও আরাকান আর্মির সংঘাত চলায় নিরাপত্তার অজুহাতে রোহিঙ্গাদের ফেরত নিতে পারবে না বলে জানিয়েছে মিয়ানমার।
আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক ড. আমেনা মহসিন বলেন, "যারা এভাবে নির্যাতিত হয়েছে, তাদের পক্ষে বিশ্ব জনমত তৈরি হয়েছে। এই জনমত ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে কাজে লাগাতে হবে।"
অভিবাসন ও শরণার্থী বিষয়ক বিশেষজ্ঞ আসিফ মুনীর বলেন, "সাত থেকে আট লাখ রোহিঙ্গাকে আঞ্চলিকভাবে স্থানান্তর করা গেলে, এটি একটি মধ্যবর্তীকালীন সমাধান হতে পারে যা চাপ কমাবে।"
২০১৮ ও ২০১৯ সালে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের জন্য দুই দেশ প্রস্তুতি নিলেও শেষ পর্যন্ত একজনও মিয়ানমারে ফিরতে পারেননি। ৯ বছর পর কক্সবাজারে জন্ম নেয়া একটি শিশুও জানে না, তার পূর্বপুরুষের ভিটে-মাটি কোথায়। এই অনিশ্চয়তা রোহিঙ্গা সংকটের ভয়ঙ্কর বাস্তবতা বলে উল্লেখ করেছেন বিশেষজ্ঞরা।