সোমবার, ২৪ আগস্ট, ২০২৬
ব্রেকিং
অপরাধ

মাদক সেবনে বাধা দেওয়ায় শিক্ষক ও তার পরিবারের ৪ জনকে হত্যা

রংপুরে মাদক সেবনে বাধা দেওয়ায় শিক্ষক ও তার পরিবারের ৪ সদস্যকে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।

মাদক সেবনে বাধা দেওয়ায় শিক্ষক ও তার পরিবারের ৪ জনকে হত্যা

রংপুরে মাদক সেবনে বাধা দেওয়ার কারণে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীকে হত্যা করা হয়েছে, এমন তথ্য জানিয়েছে পুলিশ। শনিবার (২৩ আগস্ট) দুপুরে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মোহাম্মদ আব্দুল মাবুদ এক ব্রিফিংয়ে এই বিষয়টি তুলে ধরেন।

পুলিশ কমিশনার জানান, গণপতি চক্রবর্তী তার বাড়ির ছাদে মাদক সেবনে বাধা দেওয়ার পর দুই যুবক তাকে গামছা দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। এরপর হত্যার বিষয়টি জানাজানি হওয়ার আশঙ্কায় তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী ও দুই সন্তানকে হত্যা করা হয়।

গণপতি চক্রবর্তী হত্যার সময় তিনি বাঁচার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করেন। তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী যখন সিঁড়ি দিয়ে ওপরে আসার চেষ্টা করেন, তখন খুনিরা তাকে গলায় গামছা পেঁচিয়ে হত্যা করে। পরে তাদের ২৫ বছর বয়সী মেয়ে প্রার্থী চক্রবর্তীও হত্যার শিকার হন।

পুলিশ কমিশনারের বক্তব্য অনুযায়ী, প্রার্থী চক্রবর্তীর মৃত্যু হতে চার থেকে পাঁচ মিনিট সময় লাগে। খুনিরা তাকে রশি দিয়ে শক্ত করে পেঁচিয়ে ধরে। পরে তারা নিচতলায় গিয়ে রংপুর জেলা স্কুলের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র প্রিয়মকেও হত্যা করে।

হত্যার পর খুনিরা বাসায় গোসল করে এবং পরে ডাইনিং টেবিলে বসে খেজুর খায় এবং ইয়াবা সেবন করে। ঘটনাস্থল থেকে ইয়াবা সেবনের আলামতও পাওয়া গেছে বলে জানান কমিশনার।

নিহতদের পরিবারের সদস্যরা জানান, গণপতি চক্রবর্তী কিংবা তার পরিবারের সঙ্গে কারও বিরোধ ছিল না। নিহত প্রীতিলতার বোন পূজা জানান, পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে না পেরে তিনি রাতেই ওই বাড়িতে যান এবং প্রধান ফটক তালাবদ্ধ দেখে পাশের বাসা দিয়ে ঢুকে ঘরের এলোমেলো অবস্থা দেখতে পান।

পরে পুলিশ এসে গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী প্রীতিলতা, এবং তাদের দুই সন্তান—প্রার্থি ও প্রিয়মের মরদেহ উদ্ধার করে। প্রার্থি চক্রবর্তী মাস্টার্স পাস ছিলেন এবং প্রিয়ম রংপুর জেলা স্কুলের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র ছিলেন।

বিজ্ঞাপন