রংপুর মহানগরীর মাছুয়াপাড়ায় তালাবদ্ধ নিজ বাড়ি থেকে রংপুর জিলা স্কুলের সাবেক শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ একই পরিবারের চারজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এই ঘটনায় পুলিশ তিনজনকে আটক করেছে। শনিবার (২২ আগস্ট) রাত ১১টা থেকে রোববার (২৩ আগস্ট) ভোর ৫টা পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে মরদেহগুলো উদ্ধার করা হয়।
নিহতদের মধ্যে রয়েছেন গণপতি চক্রবর্তী (৬৫), তার স্ত্রী প্রীতিলতা (৫৫), মেয়ে আগামী (২৫) এবং ছেলে প্রিয়ম (১২)। তাদের গ্রামের বাড়ি রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার মির্জাপুর এলাকায়। নিহত প্রীতিলতার বোন পূজা চক্রবর্তি জানান, সর্বশেষ বৃহস্পতিবার রাতে তার বড় বোনের সঙ্গে কথা হয়েছিল। শনিবার রাতে ফোন বন্ধ পেয়ে সন্দেহ হলে তারা বাড়িতে যান।
বাড়ির প্রধান ফটক তালাবদ্ধ থাকায় প্রতিবেশীদের সহযোগিতায় ভেতরে প্রবেশ করে তারা এলোমেলো অবস্থায় আসবাবপত্র দেখতে পান। পরে গণপতি চক্রবর্তির ভায়রা বিপুল আচার্য্য কোতোয়ালি থানায় যোগাযোগ করেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পুরো বাড়ি ঘিরে ফেলে।
রংপুর সিআইডির এসপি (ভারপ্রাপ্ত) সুমিত চৌধুরী জানান, মরদেহগুলোতে পচন ধরেছে এবং ধারণা করা হচ্ছে, তিন-চার দিন আগে তাদের মৃত্যু হয়েছে। বাড়ির বৈদ্যুতিক সংযোগ বিচ্ছিন্ন ছিল এবং আসবাবপত্রের ড্রয়ার ভাঙা অবস্থায় পাওয়া গেছে।
পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিবি) সনাতন চক্রবর্তী বলেন, চারজনের হত্যার আলামত পাওয়া গেছে। তাদের শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। প্রত্যেকের গলায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।
এদিকে, ঘটনার প্রতিবাদে রংপুর জিলা স্কুল ও কারমাইকেল কলেজ মানববন্ধন কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। পুরো ঘটনা নিয়ে সোমবার দুপুর ১২টায় পুলিশ কমিশনারের কার্যালয়ে ব্রিফিং করার কথা রয়েছে।