শনিবার, ১০ অক্টোবর, ২০২৬
ব্রেকিং
লক্ষ্মীপুরের মাদ্রাসায় শিক্ষার্থীকে নির্যাতনের অভিযোগ, ভিডিও ভাইরাল প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সামনে ককটেল বিস্ফোরণ, নিরাপত্তা জোরদার লক্ষ্মীপুরে কওমি মাদ্রাসায় শিশুকে শিকল দিয়ে নির্যাতন কুমিল্লায় সপ্তম শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগে সিএনজিচালক গ্রেপ্তার কুমিল্লায় স্কুলছাত্রী তাজমিনকে ধর্ষণের পর হত্যা: সিএনজি চালক গ্রেফতার রিয়াদ বিমানবন্দরে হুতিদের হামলায় নিহত ৩, আহত অনেকে কুমিল্লায় ১৫ বছরের কিশোরীর লাশ উদ্ধার, হত্যার সন্দেহ যুক্তরাষ্ট্রের উপকূলে ধেয়ে আসছে শক্তিশালী হারিকেন ইসাইয়াস ইউক্রেনে রুশ বোমা হামলায় নিহত ৩৩, আহত ১৮ ক্রামাতোরস্কে রাশিয়ান হামলায় ৩৩ জন নিহত
অপরাধ

মাদরাসা শিক্ষকের বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলায় ডিএনএ পরীক্ষায় প্রমাণিত শিশুর জৈবিক বাবা

মদনে ১১ বছর বয়সী শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় মাদরাসা শিক্ষক সাগর শিশুর জৈবিক বাবা প্রমাণিত হয়েছেন।

মাদরাসা শিক্ষকের বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলায় ডিএনএ পরীক্ষায় প্রমাণিত শিশুর জৈবিক বাবা

নেত্রকোণার মদনে ১১ বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় জন্ম নেওয়া নবজাতকের ডিএনএ পরীক্ষায় মামলার আসামি মাদরাসা শিক্ষক আমান উল্লাহ মাহমুদী সাগরই শিশুটির জৈবিক বাবা হিসেবে প্রমাণিত হয়েছেন।

সোমবার ডিএনএ পরীক্ষার প্রতিবেদনের বরাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট নুরুল কবীর রুবেল। তিনি জানান, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে অভিযোগপত্র দাখিলের আগে মতামতের জন্য তার কাছে ডিএনএ প্রতিবেদন নিয়ে আসেন।

প্রতিবেদনে নবজাতকের সঙ্গে আসামি আমান উল্লাহ মাহমুদী সাগরের ডিএনএ নমুনার জেনেটিক পরিচয় মিলেছে। পিপি বলেন, "অর্থাৎ ডিএনএ পরীক্ষায় সাগরই নবজাতকের জৈবিক বাবা হিসেবে প্রমাণিত হয়েছেন।"

তিনি আরও জানান, আগামী এক-দুই দিনের মধ্যে ডিএনএ প্রতিবেদনসহ আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হবে। অভিযোগপত্র দাখিলের পর ৬০ দিনের মধ্যে মামলাটির বিচারকাজ শেষ করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, প্রায় চার বছর আগে আমান উল্লাহ মাহমুদী সাগর একটি মহিলা কওমি মাদরাসা প্রতিষ্ঠা করেন। শিশুটির মা-বাবার বিচ্ছেদের পর সে নানার বাড়িতে থেকে ওই মাদরাসায় পড়াশোনা করত।

শিশুটির মা জীবিকার প্রয়োজনে সিলেটে গৃহপরিচারিকার কাজ করতেন। গত ১৮ এপ্রিল মদন পৌর শহরের একটি ক্লিনিকে পরীক্ষা করালে চিকিৎসক শিশুটিকে অন্তঃসত্ত্বা বলে জানান। পরে ২৩ এপ্রিল তার মা বাদী হয়ে মাদরাসা শিক্ষক আমান উল্লাহ মাহমুদী সাগরের বিরুদ্ধে মামলা করেন।

এরপর ৬ মে ময়মনসিংহের গৌরীপুর থেকে র‍্যাবের হাতে গ্রেপ্তার হন সাগর। পরদিন আদালত তাকে তিন দিনের রিমান্ডে পাঠান। রিমান্ড শেষে তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পর আদালত তার ডিএনএ পরীক্ষার নির্দেশ দেন।

শিশুটির নিরাপত্তা ও ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে ১২ মে আদালতের নির্দেশে তাকে সমাজসেবা অধিদপ্তরের অধীন সিলেটের একটি সেফ হোমে পাঠানো হয়। সেখানে ২ জুলাই সে একটি কন্যাশিশুর জন্ম দেয়।

নবজাতকের ডিএনএ পরীক্ষার জন্য ৯ জুলাই আদালতে আবেদন করে পুলিশ। পরে আদালতের নির্দেশে ২৮ জুলাই সিলেটের ওই সেফ হোমে নবজাতকের নমুনা সংগ্রহ করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

সিআইডির করা ডিএনএ পরীক্ষার প্রতিবেদনে মামলার আসামি মাদরাসা শিক্ষক আমান উল্লাহ মাহমুদী সাগরকে নবজাতকের জৈবিক বাবা হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন