১৮ আগস্ট বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য একটি তাৎপর্যপূর্ণ দিন। ১৯৬১ সালের এই দিনে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার অধ্যাদেশ জারি হয়েছিল; পরবর্তীতে ২ সেপ্টেম্বর প্রথম উপাচার্য নিয়োগের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয় আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করে।
প্রতিষ্ঠালগ্নে দেশের কৃষি উন্নয়নের জন্য দক্ষ কৃষিবিদ, বিজ্ঞানী ও প্রযুক্তিবিদ তৈরিই ছিল প্রধান লক্ষ্য। ছয় দশকেরও বেশি সময় পর বাংলাদেশের কৃষির বাস্তবতা বদলেছে, বদলেছে খাদ্যব্যবস্থার চ্যালেঞ্জও। এখন শুধু বেশি খাদ্য উৎপাদন করাই যথেষ্ট নয়—খাদ্য হতে হবে নিরাপদ, পুষ্টিকর, মানসম্মত, টেকসই এবং সবার জন্য সহজলভ্য।
এই পরিবর্তিত বাস্তবতায় বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্বও নতুন মাত্রা পেয়েছে। খাদ্য নিরাপত্তা এখন আর কেবল উৎপাদনের প্রশ্ন নয়; এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে খাদ্য নিরাপত্তা ও নিরাপদ খাদ্য, পুষ্টি, জলবায়ু পরিবর্তন, পরিবেশ দূষণ, অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স, মাইকোটক্সিন, কীটনাশকের অবশিষ্টাংশ, ভারী ধাতু, খাদ্য ভেজাল, মাইক্রোপ্লাস্টিকসহ নানা উদীয়মান ঝুঁকি।
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্টারডিসিপ্লিনারি ইন্সটিটিউট ফর ফুড সিকিউরিটি (IIFS) খাদ্য নিরাপত্তার বিষয়কে কৃষি, মৎস্য, প্রাণিসম্পদ, পরিবেশ, স্বাস্থ্য, পুষ্টি ও নীতিনির্ধারণের মতো বিভিন্ন ক্ষেত্রের সঙ্গে সমন্বিতভাবে দেখার একটি প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করছে। ২০১৩ সালে প্রতিষ্ঠিত এই ইনস্টিটিউট আধুনিক সুবিধা সম্বলিত গবেষণাগার ও খাদ্য নিরাপত্তা, খাদ্যের মান, পুষ্টি ও টেকসই খাদ্যব্যবস্থা নিয়ে শিক্ষা, গবেষণা ও উদ্ভাবনের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে।
বাংলাদেশের খাদ্যব্যবস্থা দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। কৃষি উৎপাদন থেকে শুরু করে সংগ্রহ, পরিবহন, সংরক্ষণ, প্রক্রিয়াজাতকরণ, বাজারজাতকরণ এবং ভোক্তার প্লেট পর্যন্ত একটি দীর্ঘ ও জটিল সরবরাহ ব্যবস্থা তৈরি হয়েছে। প্রতিটি ধাপেই খাদ্য নিরাপত্তার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে দেশের প্রথম একাডেমিক প্রোগ্রাম বিএসএসি ইন ফুড সেফটি ম্যানেজমেন্ট চালু হওয়া একটি সময়োপযোগী পদক্ষেপ। এই শিক্ষাক্রমের সবচেয়ে বড় সম্ভাবনা হলো—বাংলাদেশের খাদ্যব্যবস্থার বাস্তব সমস্যাগুলোকে সামনে রেখে ভবিষ্যতের ফুড সেফটি প্রোফেশনাল তৈরি করা।
IIFS-এর কাছে প্রত্যাশা হলো দেশের নিরাপদ খাদ্য বিষয়ে একটি জাতীয় উৎকর্ষকেন্দ্র হিসেবে এর বিকাশ। গবেষণাকে মাঠের সমস্যার সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত করা এবং আধুনিক খাদ্য নিরাপত্তা গবেষণাগার ও বিশ্লেষণাত্মক ক্ষমতা বৃদ্ধি করা প্রয়োজন।
চ্যালেঞ্জও রয়েছে। সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো interdisciplinary education ও research-এর বাস্তব প্রয়োগ।