প্রতিবছর বাংলাদেশে ৩০ হাজার কোটি টাকার সবজি ও মশলা পরিবহন ও সংরক্ষণের জটিলতার কারণে নষ্ট হচ্ছে। গবেষকরা জানিয়েছেন, উৎপাদন থেকে বাজারজাত করার বিভিন্ন ধাপে আলু, টমেটোসহ ১০ ধরনের সবজি সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
দেশে প্রতি বছর ৫০ লাখ টন সবজি ও মশলা নষ্ট হয়, যা কৃষকদের জন্য বড় ধরনের লোকসান এবং খাদ্য নিরাপত্তার জন্য একটি ঝুঁকি সৃষ্টি করছে। বগুড়া পল্লী উন্নয়ন একাডেমি ও চর উন্নয়ন গবেষণা কেন্দ্র (সিডিআরসি) এর ১৪ বছরের গবেষণায় দেখা গেছে, আলু, টমেটো, পেঁয়াজ ও বাঁধাকপি সবচেয়ে বেশি নষ্ট হচ্ছে।
গবেষকদের মতে, গ্রামীণ সংরক্ষণ ব্যবস্থা আধুনিকায়নের মাধ্যমে ফসলের অপচয় কমানো সম্ভব। চাষিরা পরিবহনের সময় অসতর্কতার কারণে সবজি ও মশলার ক্ষতির কথা উল্লেখ করেছেন। এছাড়া, পর্যাপ্তসংখ্যক বিশেষায়িত হিমাগার না থাকার কারণে সংরক্ষণের অভাবে ফসল নষ্ট হচ্ছে।
বগুড়া সিডিআরসির সিনিয়র টেকনিক্যাল অ্যাডভাইজার ড. এ কে এম জাকারিয়া বলেন, ‘গ্রামীণ সংরক্ষণ ব্যবস্থা আধুনিকায়ন করা গেলে ফসলের অপচয় কমানো সম্ভব।’
বগুড়া কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক মো. আব্দুল ওয়াদুদ বলেন, ‘বিশ্বব্যাপী ফল ও শাকসবজি নষ্টের হার ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ। বাংলাদেশে এ হার ২০ থেকে ৪৪ শতাংশ। উৎপাদনের পর ফসলের অপচয় রোধ এখন বড় চ্যালেঞ্জ।’
গবেষকরা জানিয়েছেন, ফসল সংরক্ষণে গ্রামীণ উদ্ভাবনী পদ্ধতির আধুনিকায়ন ও ব্যবহারের মাধ্যমে সবজি ও মসলার অপচয় ১৮ শতাংশ পর্যন্ত কমানো সম্ভব।