মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের সমীকরণে পরিবর্তন আনতে ইরান একের পর এক সামরিক অভিযান শুরু করেছে। এই অভিযানে যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা জোটের নিরাপত্তা ব্যবস্থা প্রশ্নের মুখে পড়েছে।
ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) জানিয়েছে, তারা ‘অপারেশন নাসর-২’-এর ২৪তম ধাপে পারস্য উপসাগরজুড়ে মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোর বিরুদ্ধে নতুন ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে।
আইআরজিসির দাবি অনুযায়ী, বাহরাইনের আল-মুহাররাকে একটি মার্কিন রাডার স্থাপনা ও বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস করা হয়েছে। তারা আল-রিফায় অবস্থিত একটি প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র ব্যাটারিকেও অকার্যকর করেছে।
দ্বিতীয় ধাপে বাহরাইনে অবস্থিত আমাজনের একটি কেন্দ্রীয় ডেটা অবকাঠামোতে ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি করেছে ইরান। তেহরানের অভিযোগ, এই অবকাঠামোটি মার্কিন সামরিক কার্যক্রমকে সহায়তা করছিল।
কুয়েতেও আইআরজিসি দীর্ঘপাল্লার রাডার, যোগাযোগ ব্যবস্থা, স্যাটেলাইট রিসিভিং সিস্টেম এবং ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা রাডারে হামলা চালিয়েছে।
জর্ডানের রুকবান এলাকায় মার্কিন সামরিক কম্পাউন্ডে হামলায় কয়েকজন মার্কিন সেনা প্রাণ হারিয়েছেন। গত ১৭ জুলাইও কুয়েত, ওমান, সিরিয়া, জর্ডান, কাতার ও বাহরাইনে মার্কিন ঘাঁটিতে আঘাত হানে ইরান।
বিভিন্ন দেশের কর্তৃপক্ষ এসব হামলার ঘটনা নিশ্চিত করেছে। হরমুজ প্রণালীতেও নতুন পদক্ষেপের কথা জানিয়েছে তেহরান। সামরিক কর্মকর্তারা স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের হামলা অব্যাহত থাকলে তাদের অভিযানও চলবে।
মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন ঘাঁটিগুলো ইরানের তুলনামূলক কম খরচের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের হাত থেকে রেহাই পাচ্ছে না। এই পরিস্থিতি ইরানের সামরিক শক্তির প্রকৃত চিত্র তুলে ধরছে।