মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের ভূগর্ভস্থ পারমাণবিক স্থাপনায় ‘খুব ভারী হামলা’ চালানোর হুমকি দিয়েছেন। এর পরপরই তেহরান থেকে এসেছে একটি কঠোর প্রতিক্রিয়া, যা কেবল যুক্তরাষ্ট্রের জন্যই নয়, পুরো অঞ্চলের জন্য একটি ভয়ংকর সতর্কবার্তা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ড 'খাতাম আল-আম্বিয়া' জানিয়েছে, যদি যুক্তরাষ্ট্র তাদের পারমাণবিক কিংবা অন্য কোনো সংবেদনশীল স্থাপনার ওপর হামলা চালায়, তবে মার্কিন স্বার্থ, ঘাঁটি এবং মিত্র দেশগুলো ইরানের আক্রমণের হাত থেকে রেহাই পাবে না।
তারা আরও উল্লেখ করেছে যে, যুক্তরাষ্ট্রের হামলা পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ বিস্তারের ঘোষণা হিসেবে গৃহীত হবে এবং ইরানের সশস্ত্র বাহিনী শক্তিশালী পাল্টা আঘাত দেবে।
এদিকে, ইসলামি রিভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) 'অপারেশন নাসর-২'-এর নতুন ধাপে কুয়েতের আলি আল-সালেম ঘাঁটির আশপাশের রাডার ব্যবস্থা অকার্যকর করে দিয়েছে। আইআরজিসির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সামরিক অভিযান এখনও চলমান এবং ভবিষ্যতে আরও অভিযান হবে।
যুক্তরাষ্ট্রও প্রতিক্রিয়া জানাতে পিছপা হচ্ছে না। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, টানা ১১তম রাতের মতো তারা ইরানের সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে, যার উদ্দেশ্য হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের ওপর ইরানের হুমকি কমানো।
এছাড়া, মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় প্রায় ৩৭.৫ বিলিয়ন ডলার। চলতি বছরের জুলাইয়ের শুরু থেকে ১০০ মার্কিন সেনা আহত হয়েছেন।
কূটনৈতিক ক্ষেত্রেও পরিস্থিতি জটিল হচ্ছে। ইরান বুলগেরিয়াকে সতর্ক করে বলেছে, যদি তারা যুক্তরাষ্ট্রকে নিজেদের ঘাঁটি ব্যবহার করতে দেয়, তবে এটি আন্তর্জাতিক আইনের দৃষ্টিতে আগ্রাসনের অংশ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। ফ্রান্সের সঙ্গেও ইরানের কূটনৈতিক উত্তেজনা বেড়েছে।
এখন প্রশ্ন হচ্ছে, ট্রাম্প কি ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে নিজেদের উপস্থিতিকে ঝুঁকির মুখে ফেলবেন, নাকি কূটনীতির মাধ্যমে পরিস্থিতি মোকাবেলা করবেন?