ইয়েমেনের হুথিরা সৌদি বন্দরের ওপর ব্লকেড ঘোষণা করার পর, এশিয়ার জন্য দৈনিক ৬ মিলিয়ন ব্যারেল তেল পরিবহণের ঝুঁকি বেড়ে গেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিস্থিতি বিশ্বব্যাপী তেল সরবরাহে আরও চাপ সৃষ্টি করতে পারে।
রেড সি অঞ্চলে দুটি ট্যাঙ্কার, রডোস এবং জিন লং ইয়াং, সৌদি আরবের পশ্চিমাঞ্চলীয় বন্দরের ইয়ানবু থেকে ২.৮ মিলিয়ন ব্যারেল তেল নিয়ে যাওয়ার পথে ফিরে এসেছে। এই ঘটনা সৌদি তেল রপ্তানিতে হুথির হুমকির প্রথম দৃশ্যমান প্রমাণ।
সৌদি আরবের তেল রপ্তানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দেশটি হরমুজ প্রণালীতে প্রতিবন্ধকতা কাটিয়ে উঠতে পাইপলাইনের মাধ্যমে তেল পরিবহণ করছিল। কিন্তু এখন বাব আল-ম্যান্ডেবেও বিপদ দেখা দিয়েছে, যার ফলে সৌদি আরবের জন্য বিকল্প পথগুলোও ঝুঁকিতে পড়েছে।
এশিয়ার রিফাইনাররা এখন একটি দীর্ঘ পথের চিন্তা করছে: ইয়ানবু থেকে তেল পাঠানো মিশরের সুয়েজ খাল হয়ে ভূমধ্যসাগরে এবং আফ্রিকা ও গুড হোপের চারপাশে ঘুরে এশিয়ায় পৌঁছানো। এই বিকল্প পথে তেল পরিবহণ করা সম্ভব হলেও, এটি সময়সাপেক্ষ এবং খরচ বাড়িয়ে দেবে।
রেড সি অঞ্চলে এই হুমকি তখনই এসেছে যখন হরমুজ প্রণালীতে ইতিমধ্যেই মার্কিন ও ইরানি সংঘাতের কারণে তেল পরিবহণে সমস্যা দেখা দিয়েছে। গত মঙ্গলবার হরমুজ প্রণালীতে মাত্র তিনটি পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল করেছে, যা পূর্বের চেয়ে উল্লেখযোগ্যভাবে কম।
হুথিরা সৌদি আরবের বিরুদ্ধে সামরিক কার্যক্রম বাড়ানোর হুমকি দিয়েছে, যা সৌদি তেল রিফাইনারির ওপর হামলার ঝুঁকি বাড়াতে পারে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই পরিস্থিতি এশিয়ার তেল ভোক্তাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করবে।