মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি আবারও উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে উঠেছে, যেখানে সৌদি আরব এবং ইরানের মধ্যে সংঘাতের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা এবং সৌদি ভূখণ্ডে ড্রোন হামলার কারণে পরিস্থিতি মারাত্মক হয়ে উঠছে।
সম্প্রতি হুথি বিদ্রোহীরা ইয়েমেনের হাদ্রামাউত ও মারিব প্রদেশে একাধিক মিসাইল ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। এই হামলায় অন্তত ৩০ জন সেনা নিহত হন এবং সৌদি আরবের নাজরান প্রদেশে চার বছরের এক শিশুসহ আরও ১১ জন আহত হন। হুথিদের দাবি, সৌদি আরব তাদের বিরুদ্ধে নতুন সামরিক অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে, তাই তারা এ হামলা চালিয়েছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, হুথিদের এই হামলার পেছনে দুটি প্রধান কারণ রয়েছে। প্রথমত, সৌদি আরব ও হুথিদের মধ্যে চলমান অঘোষিত যুদ্ধবিরতি ভেঙে যাওয়ার পর, হুথিরা নিজেদের দাবি আদায়ের জন্য সামরিক চাপ বাড়ানোর চেষ্টা করছে। দ্বিতীয়ত, মধ্যপ্রাচ্যে ইরান এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়ার পর হুথিরা সৌদি আরবের বিরুদ্ধে কার্যকরী পদক্ষেপ নিচ্ছে।
গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী হুথি বিদ্রোহীদের সমর্থন দিয়ে আসছে এবং তারা সৌদি আরবের তেলক্ষেত্র, বন্দর ও বিমানবন্দরে হামলার পরিকল্পনা করছে।
সৌদি আরব এই পরিস্থিতিতে ধৈর্য ও সংযম দেখিয়ে আসছিল, কিন্তু এখন কঠোর অবস্থানে যাচ্ছে। তারা লোহিত সাগরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ১৩টি দেশ নিয়ে একটি আন্তর্জাতিক সামরিক জোট গঠন করেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি হুথিরা সৌদি আরবের তেলক্ষেত্র ও বিমানবন্দরে হামলা চালাতে থাকে, তবে সৌদি আরব আবারও বিমান ও পদাতিক অভিযান শুরু করতে পারে। এর ফলে বিশ্ব অর্থনীতি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে, কারণ লোহিত সাগর দিয়ে বিশ্ব বাণিজ্যের ৩০ শতাংশ কনটেইনার এবং ১৫ শতাংশ তেল পরিবহন হয়।
বর্তমানে আন্তর্জাতিক মহল উত্তেজনা কমানোর চেষ্টা করছে, কিন্তু পরিস্থিতি বলছে যে ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে গেছে। সৌদি আরব ও ইরানের এই সংঘাত যদি সরাসরি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধে রূপ নেয়, তবে তা পুরো মধ্যপ্রাচ্যকে বিপর্যস্ত করে তুলবে।