ইরানের সমর্থিত হুথি বাহিনী ইয়েমেনে সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ দুটি তেল স্থাপনায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে, যা চলমান অঞ্চলের সংঘাতকে নতুন মাত্রা দিয়েছে। এই হামলা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ইরানের যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ঘটেছে।
রবিবার সকালে সৌদি আরবের আকাশে কোনও নতুন মার্কিন হামলার খবর পাওয়া যায়নি। ১১ জুলাইয়ের পর থেকে ইরানকে লক্ষ্য করে ১৩টি মার্কিন বিমান হামলা সংঘটিত হয়েছে। ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) হরমুজ প্রণালীতে ট্যাঙ্কারগুলোর উপর হামলা চালানোর পর এই হামলাগুলি শুরু হয়।
দুই পক্ষই জুনে স্বাক্ষরিত একটি অন্তর্বর্তী শান্তি চুক্তিকে মৃত ঘোষণা করেছে, এবং একটি বিস্তৃত শান্তি চুক্তির দ্বিতীয় পর্যায়ের আলোচনা ভঙ্গুর অবস্থায় রয়েছে। তবে, শুক্রবারের পর থেকে মার্কিন বিমান হামলা বন্ধ রয়েছে এবং ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে আলোচনার কিছু সংকেত দেখা যাচ্ছে।
হুথি বাহিনী সৌদি আরবের জিজান ও ইয়ানবু শহরের তেল স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে। হুথি সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি জানান, সৌদি আরামকোর স্থাপনাগুলোর উপর এই হামলা করা হয়। হামলার পর জিজানের তেল শোধনাগার থেকে প্রচুর ধোঁয়া উড়তে দেখা যায়।
সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ইয়ানবুতে দুটি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করেছে। এই সংঘাতের ফলে হুথিরা বাব আল-মান্ডেব প্রণালিকে অবরুদ্ধ করার আশঙ্কা প্রকাশ করেছে, যা রেড সি ও গালফ অফ অ্যাডেনের সংযোগ ঘটায়।
ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধ ইউক্রেনের সংঘাতের সঙ্গেও জড়িয়ে পড়েছে। শনিবার একটি ইরানি জাহাজে হামলা চালিয়ে একজন নাবিক নিহত ও অপর একজন আহত হয়েছে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এই হামলাকে সফল বলে উল্লেখ করেছেন।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হামলার হঠাৎ বিরতির কারণ জানায়নি, তবে তিনি বলেছেন যে ইরান আলোচনা করতে আগ্রহী। তিনি জানান, "তারা আমাদের সাথে কথা বলছে; তারা একটি চুক্তি করতে চায়।"