মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মাত্র কয়েক দিন আগে ইরানের বিরুদ্ধে বড় ধরনের হামলার হুমকি দিয়েছিলেন। তবে, শেষ মুহূর্তে তিনি হামলা স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছেন। ট্রাম্পের মতে, দ্রুত সমঝোতা হলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল নতুন আঘাত হানবে না।
ট্রাম্পের ঘোষণার পর, ইরান ইস্যুতে সম্ভাব্য একটি চুক্তির কথা উঠে এসেছে। তিনি জানান, সংঘাত থামাতে মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশ ও ইরান উদ্যোগ নিয়েছে।
তবে, হরমুজ প্রণালি এখনও কার্যত বন্ধ রয়েছে এবং হুতিদের হামলার আশঙ্কায় লোহিত সাগরেও জাহাজ চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের অবস্থান পরিবর্তনের পেছনে কৌশলগত ও অর্থনৈতিক কারণ রয়েছে।
বিশ্বের পাঁচ ভাগের একভাগ অপরিশোধিত তেল এবং বিপুল পরিমাণ তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবহন হয়। এই পথ দীর্ঘদিন বন্ধ থাকলে বিশ্ব অর্থনীতি চাপের মুখে পড়তে পারে।
সাম্প্রতিক সংঘাতের পর যুক্তরাষ্ট্রের প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মজুত উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। নতুন সংঘাতে জড়ালে মার্কিন প্রতিরক্ষা সক্ষমতার ওপর চাপ বাড়তে পারে।
সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান ট্রাম্পকে হামলা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। পাকিস্তান, কাতার, তুরস্ক ও সংযুক্ত আরব আমিরাতও কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়িয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক আলী শিহাবি জানান, সৌদি আরব মনে করে সংঘাত বাড়ানো কার্যকর হবে না। বরং সীমিত সামরিক পদক্ষেপের মাধ্যমে কূটনৈতিক সমাধানের পথ তৈরি করা সম্ভব।
তবে, ইরান ট্রাম্পের দাবিকে সরাসরি নাকচ করেছে। তারা স্পষ্ট জানিয়েছে, নতুন হামলা হলে জবাব দেওয়া হবে এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের জ্বালানি স্থাপনাও লক্ষ্যবস্তু হতে পারে।
সমালোচকরা ট্রাম্পের ঘোষণাকে চাপ সৃষ্টির কৌশল হিসেবে দেখছেন, কারণ চুক্তির বিস্তারিত প্রকাশ করেনি ইরান বা মধ্যস্থতাকারী দেশগুলো।