গ্রিসে চলমান দাবানলের কারণে অগ্নিনির্বাপক কার্যক্রম চলাকালীন দুটি হেলিকপ্টারের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। রোববার (২ আগস্ট) এথেন্সের উত্তর-পশ্চিমে অ্যাটিকা অঞ্চলের পসাথা এলাকায় আগুন নেভানোর সময় এই দুর্ঘটনা ঘটে। সরকারি কর্মকর্তারা জানান, একটি হেলিকপ্টারের ক্রুরা নিরাপদে উদ্ধার হয়েছেন, অন্যটির জন্য নিখোঁজদের উদ্ধারে অভিযান চলছে।
এদিকে, গ্রিসের করিন্থ উপসাগরসংলগ্ন এলাকায় দাবানলে শতাধিক বাড়ি পুড়ে গেছে। আগুন ছড়িয়ে পড়ায় মেগারা শহরের আশপাশসহ পশ্চিম অ্যাটিকার কয়েকটি এলাকা থেকে বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। জনপ্রিয় পর্যটন দ্বীপ কেফালোনিয়াতেও নতুন করে দাবানল ছড়িয়ে পড়েছে, ফলে কিছু বসতি খালি করা হয়েছে।
গ্রিসের প্রধানমন্ত্রী কিরিয়াকোস মিৎসোতাকিস বলেন, "প্রকৃতির ভয়াবহতা ও চরম আবহাওয়ার কারণে অনেক সময় পরিস্থিতি মানুষের পরিকল্পনা ও সক্ষমতার বাইরে চলে যায়।"
অন্যদিকে, ইউরোপের বিভিন্ন দেশে খরার কারণে বিপর্যয় সৃষ্টি হয়েছে। দানিউব নদীর পানির স্তর ইতিহাসের সর্বনিম্নে নেমে যাওয়ায় হাঙ্গেরির একমাত্র পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রথমবারের মতো বন্ধ করতে হয়েছে। এই পরিস্থিতির ফলে নৌপরিবহন, পর্যটন এবং পানি সরবরাহেও বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে।
সার্বিয়াতেও দানিউব নদীর পানি ১৯৮৫ সালের পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে গেছে, যার ফলে দেশের বৃহত্তম জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের উৎপাদন সক্ষমতা দৈনিক মাত্র ২০ শতাংশে নেমে গেছে।
বিজ্ঞানীরা বলছেন, রেকর্ড তাপপ্রবাহ, দীর্ঘস্থায়ী খরা ও কম বৃষ্টিপাতের কারণে ইউরোপে দাবানলের ঝুঁকি বেড়ে গেছে, যা জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবকে স্পষ্টভাবে তুলে ধরছে।