শনিবার, ১৩ জুন, ২০২৬
ব্রেকিং
আন্তর্জাতিক

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের ১০০ দিনে শান্তিচুক্তির আশা অধরা

যুদ্ধের ১০০ দিন পেরিয়ে গেলেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শান্তিচুক্তি অধরা রয়ে গেছে।

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের ১০০ দিনে শান্তিচুক্তির আশা অধরা

যুদ্ধের ১০০ দিন পেরিয়ে গেলেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে স্থায়ী শান্তিচুক্তি এখনো অধরা রয়ে গেছে। এই সময়ে কয়েকবার দুই দেশ এমন পরিস্থিতিতে পৌঁছেছিল, যখন মনে হয়েছিল স্থায়ী সমাধান সময়ের ব্যাপার মাত্র। তবে প্রতিবারই আলোচনার শেষ মুহূর্তে ভেঙে যায়।

বিশ্লেষকদের মতে, আস্থার ঘাটতি ও কৌশলগত বিরোধ এর অন্যতম কারণ। আল জাজিরার সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। পারমাণবিক ইস্যুতে আলোচনা চলমান থাকা অবস্থায়, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে আকস্মিক হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল।

জবাবে ইরান ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত বিভিন্ন মার্কিন সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলা চালায়, যা ৪০ দিনের রক্তক্ষয়ী সংঘাতের জন্ম দেয়। এরপর গত ৮ এপ্রিল অস্থায়ী যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয় উভয় পক্ষ।

আলোচনায় দীর্ঘস্থায়ী সমাধানের আশা থাকলেও ইতোমধ্যেই দুই মাস পেরিয়ে গেছে। প্রথম সরাসরি আলোচনা অনুষ্ঠিত হয় ১১ থেকে ১২ এপ্রিল, পাকিস্তানের ইসলামাবাদে। দুই পক্ষ দীর্ঘ সময় আলোচনা করলেও কোনো চুক্তি হয়নি।

যুক্তরাষ্ট্র জানায়, ইরান তাদের চূড়ান্ত প্রস্তাব গ্রহণ করেনি, বিশেষ করে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে মতভেদ ছিল মূল বাধা। এরপর ১৬ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সমর্থনে লেবাননে ১০ দিনের যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হয়।

কিন্তু বাস্তবে ইসরায়েল হামলা অব্যাহত রাখায় এটি কার্যকর হয়নি। ইরান জানায়, লেবাননে শান্তি না এলে বৃহত্তর শান্তি সম্ভব নয়। গত ১৭ এপ্রিল ইরান ঘোষণা দেয় হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল উন্মুক্ত করা হবে।

কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র জানায়, তাদের নৌ অবরোধ চলবে যতক্ষণ না পূর্ণ চুক্তি হয়। ফলে এই উদ্যোগও ব্যর্থ হয়। পরবর্তীতে গত ১ জুন ট্রাম্প-নেতানিয়াহু ফোনালাপে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নেতানিয়াহুর সমালোচনা করেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দুই পক্ষ প্রায় ৯০ থেকে ৯৫ শতাংশ পর্যন্ত একমত হলেও শেষ ৫ শতাংশের বিষয় নিয়ে একমত হতে পারেনি। ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, হরমুজ প্রণালি ও নিষেধাজ্ঞার বিষয়গুলো আলোচনার কাছাকাছি এসেও ভেস্তে গেছে।

সব মিলিয়ে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একাধিকবার শান্তিচুক্তির খুব কাছাকাছি পৌঁছালেও আস্থার ঘাটতি ও কৌশলগত বিরোধের কারণে স্থায়ী সমাধান এখনও সম্ভব হয়ে উঠেনি।

বিজ্ঞাপন