ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান সংঘাতের আলোচনায় মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ভূমিকা রাখার পর পাকিস্তান যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ১০ বিলিয়ন ডলারের ‘বিনিময় স্থিতিশীলতা সহায়তা তহবিল’ চেয়েছে। বুধবার (২২ জুলাই) রয়টার্সের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
পাকিস্তানের অর্থমন্ত্রী মুহাম্মদ আওরঙ্গজেব যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্টের কাছে পাঠানো চিঠিতে পাঁচ বছর মেয়াদি এই তহবিল গঠনের প্রস্তাব দেন। এই আবেদনটি অনুমোদন পেলে পাকিস্তানের অর্থনীতিতে উল্লেখযোগ্য স্বস্তি আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বর্তমানে পাকিস্তান আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) কঠোর শর্তসাপেক্ষ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। নতুন তহবিল পাওয়া গেলে দেশটির বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী হবে এবং রুপির ওপর চাপ কমবে। এছাড়া বহুপাক্ষিক ঋণের ওপর নির্ভরতা অনেকাংশে কমে আসবে।
মার্কিন ট্রেজারি বিভাগের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করা হয়নি। পাকিস্তানের অর্থ মন্ত্রণালয়ও রয়টার্সের প্রশ্নের তাৎক্ষণিক জবাব দেয়নি। তবে, এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে যে, পাকিস্তানের অর্থমন্ত্রী সম্প্রতি মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারের সঙ্গে বৈঠক করেছেন এবং সেখানে আঞ্চলিক ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে অর্থনীতির ঝুঁকির বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে।
বিবৃতিতে ১০ বিলিয়ন ডলারের অনুরোধের কথা উল্লেখ করা হয়নি। অর্থমন্ত্রী আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশের সুযোগ, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বৃদ্ধি এবং ক্রেডিট রেটিং উন্নয়নে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা চেয়েছেন। উভয়পক্ষ দ্বিপাক্ষিক অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
‘এক্সচেঞ্জ স্ট্যাবিলাইজেশন ফ্যাসিলিটি’ মার্কিন ট্রেজারির একটি বিরল সহায়তা ব্যবস্থা, যা দেশের রিজার্ভ রক্ষা ও মুদ্রার মান স্থিতিশীল রাখতে সাহায্য করে। এর আগে, মেক্সিকোর সঙ্গে সোয়াপ লাইন ছাড়া ২০০২ সালে উরুগুয়ে এবং সাম্প্রতিককালে আর্জেন্টিনা এ ধরনের সহায়তা পেয়েছে।