রাজধানী ঢাকায় গত ২১ মাসে গড়ে প্রতিদিন একটি করে খুনের মামলা হয়েছে, যা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উদ্বেগজনক চিত্র তুলে ধরছে। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, মাসে গড়ে ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের মামলা ৩৬টি হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, রাজধানীতে শতাধিক পেশাদার অপরাধী চক্র সক্রিয় রয়েছে, তবে তাদের নিয়ন্ত্রণে পুলিশের কার্যকর ভূমিকা নেই। তারা সতর্ক করেছেন যে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কঠোর নির্দেশনা না দেওয়া হলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে।
গত ২৮ এপ্রিল ঢাকার নিউমার্কেট এলাকায় গুলি করে হত্যা করা হয় সন্ত্রাসী নাঈম আহমেদকে। ঘটনার দেড় মাস পরেও পুলিশ কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। এছাড়া, ১২ জুন পুলিশ তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী ইয়াছিন খান পলাশও গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান।
পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য মতে, ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে এ বছর মে মাসে ঢাকায় খুনের মামলা হয়েছে ৫৯৭টি এবং ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের মামলা ৭৭৩টি। একই সময়ে পুলিশের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে ১৪২ বার।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, রাজধানীতে অপরাধ নিয়ন্ত্রণে একটি সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে এবং গত ৫ মাসে ১৮ হাজার অপরাধী গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
ঢাকা মহানগর পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, রাজধানীতে ১১৭টি পেশাদার অপরাধী দল সক্রিয় রয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, গণমাধ্যমে আলোচিত ঘটনা ছাড়া পুলিশ কার্যকরী পদক্ষেপ নিচ্ছে না। সমাজ ও অপরাধ বিশ্লেষক ড. তৌহিদুল হক মন্তব্য করেছেন, অপরাধ নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরা অপরাধের পরিবেশ তৈরি করে দিচ্ছেন।
বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন যে, স্থানীয় সমাধান না করে অপরাধের উপসর্গ সমাধান করতে গেলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে। পুলিশ নাম-পরিচয় জানলেও অধিকাংশ অপরাধী ধরাছোঁয়ার বাইরেই থেকে যাচ্ছে, যা বাহিনীর কার্যকারিতার প্রশ্ন তুলে ধরছে।