শুক্রবার, ১৯ জুন, ২০২৬
ব্রেকিং
অর্থনীতি

সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের আমানত বেড়ে ১২ হাজার কোটি টাকা, অর্থপাচারের আশঙ্কা

সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের আমানত বেড়ে ১২ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছেছে, বিশ্লেষকদের অর্থপাচারের শঙ্কা।

সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের আমানত বেড়ে ১২ হাজার কোটি টাকা, অর্থপাচারের আশঙ্কা

২০২৫ সালে সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের আমানত ৪১ শতাংশ বেড়ে প্রায় সাড়ে ১২ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছেছে। এক বছরের ব্যবধানে ব্যক্তিগত ও প্রতিষ্ঠানগুলো ৩ হাজার ৬শ' কোটি টাকা জমা করেছে, যা ২০২১ সালের পর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ।

বিশ্লেষকদের মতে, সুইস ব্যাংকে জমা পড়া এই অর্থের বড় অংশই দেশের বাইরে পাচার হয়েছে। অগ্রণী ব্যাংকের চেয়ারম্যান সৈয়দ আবু নাসের বখতিয়ার আহমেদ জানান, এলসির মাধ্যমে আন্ডার বা ওভার ইনভয়েসিংয়ের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ অবৈধভাবে চলে যায়।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. আইনুল ইসলাম বলেন, বেসরকারি খাতে ঋণের অবস্থা খুবই খারাপ। এ ধরনের প্রবণতা বাড়লে দেশের অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

সুইস ব্যাংকগুলো গ্রাহকের গোপনীয়তা রক্ষায় বিশ্বজুড়ে পরিচিত। তবে, ২০১৮ সাল থেকে কর ফাঁকি ও অর্থপাচার রোধে স্বচ্ছতার নীতিতে হাঁটছে। ২০২৫ সালে ১০১টি দেশের প্রায় ৩৪ লাখ আর্থিক হিসাবের তথ্য শেয়ার করেছে সুইস কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

বাংলাদেশের সাথে চুক্তি না থাকায় অর্থের উৎস এবং গ্রাহকের তথ্য গোপন রাখা হয়েছে। বিশ্লেষকরা দ্রুত স্বয়ংক্রিয় তথ্য আদান-প্রদান ব্যবস্থায় যুক্ত হওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন।

ড. আইনুল ইসলাম বলেন, কূটনৈতিক সমস্যা বা দক্ষতার অভাবের কারণে বাংলাদেশ চুক্তিতে যুক্ত হতে পারছে না। সৈয়দ আবু নাসের বখতিয়ার আহমেদ বলেন, নির্বাচিত সরকারকে এ বিষয়ে চিন্তা করতে হবে, যাতে স্বচ্ছতা আসতে পারে।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালে সুইস ব্যাংকে থাকা বাংলাদেশিদের মোট আমানতের সাড়ে ৯৮ শতাংশই দেশের বিভিন্ন ব্যাংকের তহবিল।

বিজ্ঞাপন