বাংলাদেশের জাতীয় বাজেটে নবায়নযোগ্য জ্বালানির জন্য প্রণোদনা ঘোষণায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ও পরিবেশ কর্মীরা। তারা মনে করেন, এই উদ্যোগ বাংলাদেশকে নিম্ন-কার্বন জ্বালানির দেশে রূপান্তরিত করতে সহায়ক হবে।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এক আলোচনায় বক্তারা সরকারের প্রতি আহ্বান জানান, নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতের জন্য একটি সুনির্দিষ্ট রোড ম্যাপ তৈরি করতে হবে। সরকার ২০৩০ সালের মধ্যে ৩৫ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুত উৎপাদনে সক্ষম হতে চায়, যার মধ্যে ২০% নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাত থেকে আসবে।
প্রস্তাবিত বাজেটে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে ১৭.৩৪ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। আলোচনায় ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটির উপাচার্য ড. মোহাম্মদ তামিম বলেন, ‘প্রস্তাবিত প্রণোদনার ফলে সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের মোট ব্যয় প্রায় ২৫-৩০ ভাগ পর্যন্ত কমে আসতে পারে।’
ইইউর জ্বালানি ও পরিবেশ প্রোগ্রাম ম্যানেজার তানজিনা দিলশাদ বলেন, ‘নবায়নযোগ্য জ্বালানির জন্য পর্যাপ্ত জমির অভাব রয়েছে। নিউক্লিয়ার জ্বালানিও একটি উত্তম বিকল্প হতে পারে, তবে সবার আগে একটি পূর্ণাঙ্গ রোডম্যাপ প্রয়োজন।’
এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ দাবি করেছেন, সৌরবিদ্যুত প্ল্যান্ট নির্মাণে প্রয়োজনীয় ফাঁকা জায়গায় অভাব নেই। বক্তারা বলেন, প্রান্তিক ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর জন্য নিরাপদ জ্বালানি নিশ্চিত করতে নবায়নযোগ্য জ্বালানি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
প্রস্তাবিত বাজেটে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন প্রকল্প থেকে অর্জিত আয়ের ওপর ২০৩৫ সাল পর্যন্ত কর মুক্ত রাখা হয়েছে। এছাড়া সৌর প্যানেল, ইনভার্টার, ব্যাটারি, চার্জ কন্ট্রোলারসহ গুরুত্বপূর্ণ সৌর সরঞ্জাম আমদানিতে ২০৩১ সালের জুন পর্যন্ত শুল্ক মুক্ত সুবিধা দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।