নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার নিলক্ষ্যা ইউনিয়নে স্থানীয় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপের সংঘর্ষের ঘটনায় পুলিশের ভেস্ট পরা আব্দুল লতিফ (৩৫) এর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে নিলক্ষা ইউনিয়নের গোপীনাথপুর এলাকার মেঘনা নদী থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
মৃত আব্দুল লতিফ বীরগাঁও কান্দাপাড়া এলাকার শহিদ মিয়ার ছেলে। স্থানীয়দের দেওয়া তথ্যমতে, সংঘর্ষে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪ জনে। তবে রায়পুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মজিবুর রহমান জানান, এ পর্যন্ত ৩ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
ওসি মো. মজিবুর রহমান বলেন, স্থানীয়রা গোপীনাথপুর রফিক মেম্বারের বাড়ির সামনে মেঘনা নদীতে মরদেহ ভাসতে দেখে থানায় খবর দেয়। পুলিশ মরদেহটি উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে।
এর আগে সংঘর্ষের ঘটনায় মঙ্গলবার নিলক্ষ্যা ইউনিয়নের সোনাকান্দি এলাকার বুলবুল মিয়া (৩৫) এবং পূর্বপাড়া এলাকার সাবেক ইউপি সদস্য ওসমান মিয়ার ছেলে অনিক মিয়া (২২) এর মরদেহ উদ্ধার হয়। বুধবার বিকেলে সদর উপজেলার জিৎরামপুর এলাকা থেকে টেঁটাবিদ্ধ অবস্থায় কাউছার মিয়া (৩৫) নামে এক প্রবাসীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার ভোরে নিলক্ষা ইউনিয়নের দড়িগাঁও এলাকায় সাবেক ইউপি সদস্য জবা ও মিস্টার গ্রুপের অনুসারীদের মধ্যে সংঘর্ষ ঘটে। দীর্ঘদিন ধরে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলছিল। অভিযোগ রয়েছে, সাবেক ইউপি সদস্য জবা মিয়া ও আলাল মুন্সির অনুসারীরা ভাড়াটিয়া অস্ত্রধারীদের নিয়ে এলাকায় প্রবেশ করে প্রতিপক্ষের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়।
এ ঘটনায় উভয় পক্ষ দেশীয় অস্ত্র ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। গুলিবিদ্ধসহ আহতদের কয়েকজনকে ঢাকা মেডিকেলে পাঠানো হয়, যেখানে দুইজনের মৃত্যু হয়। এছাড়া দুই দিনে নদীতে ভেসে উঠে আরও দুইজনের মরদেহ।