খুলনার সোনাডাঙ্গায় গৃহকর্মীকে গরম কড়াই দিয়ে ছ্যাঁকা দেওয়ার অভিযোগে দুই পুলিশ কর্মকর্তা গ্রেপ্তার হয়েছেন। আজ বৃহস্পতিবার ভুক্তভোগীর মা থানায় মামলা দায়ের করার পর সোনাডাঙ্গা থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) সঞ্জয় মিত্র ও তাঁর স্ত্রী এএসআই পপি মিত্রকে গ্রেপ্তার করা হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোনাডাঙ্গা আবাসিক এলাকার দ্বিতীয় ফেজে ভাড়া বাসায় বসবাস করেন সঞ্জয় মিত্র ও পপি মিত্র। নরসিংদী থেকে আসা গৃহকর্মী মিলন দাস ওই দম্পতির বাসায় কাজ করতেন। বুধবার কুমড়োর তরকারি পুড়ে যাওয়ার পর গৃহকর্ত্রী পপি মিত্র মিলনকে গরম কড়াই দিয়ে ছ্যাঁকা দেন।
এ ঘটনায় স্থানীয়রা মানবাধিকারকর্মী, সাংবাদিক ও পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মিলনকে উদ্ধার করে। গৃহকর্তা ও গৃহকর্ত্রী তখন দাবি করেন যে মিলনের পিতা-মাতা নেই এবং তাঁরা তাকে আশ্রয় দিয়েছেন। তবে তারা নির্যাতনের অভিযোগ অস্বীকার করেন।
ভুক্তভোগীর মা মিনতী রানী বৃহস্পতিবার সকালে নরসিংদী থেকে এসে থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলার পর সঞ্জয় মিত্র ও পপি মিত্রকে গ্রেপ্তার করা হয়। স্থানীয় মানবাধিকারকর্মী সুতপা বেদজ্ঞ বলেন, গৃহকর্মীর শরীরের বিভিন্ন স্থানে ছ্যাঁকার দাগ রয়েছে এবং তাঁকে বিভিন্ন সময়ে নির্যাতন করা হয়েছে।
সোনাডাঙ্গা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম জানান, মামলার পর আসামিদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পপি মিত্র স্ট্রোক করার কারণে বর্তমানে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। একই হাসপাতালে গৃহকর্মী মিলন দাসও চিকিৎসাধীন আছেন।