কাশ্মিরের শ্রীনগরের পুরোনো বাজারে পর্যটকদের ভিড়ের মাঝে, স্থানীয় দোকানিরা জাফরানের সংকট নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন। দোকানি জানান, চলতি বছরে পাম্পোরের জাফরানের উৎপাদন অনেক কম হয়েছে।
তিনি বলেন, "এটা ইরানি জাফরান। অনেকে এটাকে কাশ্মিরি বলে বিক্রি করছে।" কাশ্মিরি জাফরান সাধারণত মান ও দামে ইরানি জাফরানের চেয়ে ভালো।
কাশ্মিরের সংস্কৃতিতে জাফরানের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে, যা বিয়ের খাবার, নুন চা এবং ঐতিহ্যবাহী ওষুধে ব্যবহৃত হয়। সাধারণত মধ্য অক্টোবর থেকে মধ্য নভেম্বর পর্যন্ত জাফরানের মৌসুমে কারেওয়া মালভূমি বেগুনি ক্রোকাস ফুলে ছেয়ে যায়।
গেল বছর থেকে কৃষকরা ফসল তুলতে মাঠে নামলেও, মাঠের অবস্থা অনেকটাই ফাঁকা। এক কৃষক জানান, গত বছর তিনি দেড় কেজি জাফরান পেয়েছিলেন, কিন্তু এবার মাত্র ২৫০ গ্রামের মতো।
জাফরানের উৎপাদন পরিবেশের ওপর নির্ভরশীল। কৃষকরা জানান, প্রয়োজনের সময় বৃষ্টি না হলে ফুল আসা ব্যাহত হয়।
জাফরান আসে ক্রোকাস স্যাটিভাস নামের গাছ থেকে। একটি ফুলে তিনটি লাল পরাগদণ্ড থাকে, যা ভোরের আগে হাতে তুলে আলাদা করা হয়।
কাশ্মিরি জাফরানের দাম সাধারণত ইরানি জাফরানের চেয়ে বেশি, প্রতি গ্রামের দাম চার ডলার বা তারও বেশি। ২০১০-১১ সালে জাফরানের উৎপাদন আট টন থেকে ২০২৩-২৪ সালে ২ দশমিক ৬ টনে নেমে এসেছে।
গবেষকরা জানান, আগস্ট-সেপ্টেম্বরের বৃষ্টি জাফরানের ফুল ও কন্দ গঠনে বড় ভূমিকা রাখে। বর্তমানে শরতের শুষ্ক সময় দীর্ঘ হচ্ছে, যা উৎপাদনকে প্রভাবিত করছে।
শ্রীনগরের উদ্যানতত্ত্ব বিজ্ঞানী নেয়াজ আহমদ দার জানান, তিনি নিয়ন্ত্রিত কক্ষে জাফরান ফোটানোর গবেষণা করছেন, যা আশার আলো দেখাচ্ছে।