শনিবার, ২৯ আগস্ট, ২০২৬
ব্রেকিং
জাতীয়

ভালুকার পরিবেশ বিপর্যয়ে শিল্পকারখানার ভূমিকা

ভালুকার পরিবেশ বিপর্যয়ে শিল্পকারখানার কালো ধোঁয়া ও বিষাক্ত বর্জ্যের প্রভাব।

ভালুকার পরিবেশ বিপর্যয়ে শিল্পকারখানার ভূমিকা

ময়মনসিংহের ভালুকায় অনিয়ন্ত্রিত শিল্পকারখানার কালো ধোঁয়া ও বিষাক্ত বর্জ্যে পরিবেশ বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, অধিকাংশ কারখানা আইন ও নিয়ম না মানায় জনস্বাস্থ্য হুমকির মুখে পড়েছে।

এলাকার কৃষি উৎপাদনও এই পরিবেশগত বিপর্যয়ের কারণে ব্যাহত হচ্ছে। চিমনীর বিষাক্ত ধোঁয়া এবং কারখানা থেকে নির্গত ক্ষতিকর কেমিক্যাল আশপাশের পরিবেশকে বিষিয়ে তুলছে, ফলে জমির আমন ধান ও অন্যান্য ফসল নষ্ট হচ্ছে।

ভালুকার ঢোবালিয়া পাড়ার এই চিত্র টেকসই শিল্পায়নের বিপরীত। সিসা গলিয়ে ব্যাটারি কারখানার অপরিশোধিত রাসায়নিক বর্জ্যে শুধু পরিবেশই নয়, ঘরবাড়িও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। অধিকাংশ কারখানা সরকারের নির্দেশনা মানছে না এবং শোধনাগার ব্যবহার না করে অপরিশোধিত রাসায়নিক বর্জ্য খাল-বিল ও জলাশয়ে ফেলছে।

দূষণের বিষয়ে কর্তৃপক্ষ ক্যামেরার সামনে কথা বলতে নারাজ। পরিবেশ অধিদপ্তরের ময়মনসিংহ বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক শেখ মো. নাজমুল হুদা জানান, ‘শিল্পবর্জ্য যথাযথভাবে শোধন না করে পরিবেশে ছাড়লে দীর্ঘমেয়াদে মাটি, পানি ও জীববৈচিত্র্যের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে।’

তিনি আরও বলেন, কারখানাগুলোতে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণ ও পরিবেশগত ছাড়পত্রের শর্ত মানা হচ্ছে কি না, তা তদারকিতে কাজ করছে পরিবেশ অধিদপ্তরের টিম।

এদিকে পরিকল্পিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা না থাকায় শিশুরা চরম স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়েছে; তারা নানা শ্বাসকষ্টজনিত ও চর্মরোগে আক্রান্ত হচ্ছে। ভালুকা বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের সদস্য সচিব কামরুল হাসান পাঠান কামাল বলেন, ‘পরিবেশ রক্ষায় এবং ফসল রক্ষায় সরকারকে অবিলম্বে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে।’

অনিয়ন্ত্রিত শিল্পায়নে ভালুকার অর্থনৈতিক চিত্র বদলে গেলেও, কৃষি ও প্রকৃতি ধ্বংসের মুখে। এই উন্নয়ন কতটা টেকসই, সেটি নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।

বিজ্ঞাপন