কুষ্টিয়া সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় গড়ে ওঠা রাইস মিলের নির্গত ছাই ও বর্জ্যের কারণে স্থানীয় বাসিন্দারা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। অধিকাংশ মিল পরিবেশগত শর্ত না মানায় বসতবাড়ি, কৃষিজমি এবং জিকে ক্যানাল মারাত্মক দূষণের মুখে পড়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে কদমতলা, কবুরহাট, খাজানগর, আইলচারা ও পোড়াদহ এলাকায় সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বাতাসে উড়ন্ত ছাইয়ে বাড়িঘর ও কৃষিজমি ঢেকে যাচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সামান্য বাতাসেই ছাইয়ের কণা ছড়িয়ে পড়ছে, ফলে শিশুদের ঘরের বাইরে খেলাধুলা করাও কঠিন হয়ে পড়েছে।
কদমতলা এলাকার এক গৃহিণী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘বাচ্চাকে নিয়ে বাইরে বের হতে পারি না, চোখে ছাই ঢুকে কান্নাকাটি করে।’ একই ভোগান্তির কথা জানান স্থানীয় কলেজ শিক্ষার্থী। তিনি বলেন, ‘দরজা-জানালা খুললেই খাট ও পড়ার টেবিল ছাইয়ে ভরে যায়।’
স্থানীয়দের অভিযোগ, কুষ্টিয়ায় গড়ে ওঠা তিন শতাধিক রাইস মিলের অধিকাংশই পরিবেশ অধিদপ্তরের শর্ত মানছে না। চাল উৎপাদনের সময় জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত তুষ থেকে তৈরি ছাই আধুনিক প্রযুক্তিতে সংগ্রহ বা সংরক্ষণের ব্যবস্থা নেই। ফলে ছাই বাতাসে ছড়িয়ে আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকা আচ্ছন্ন করে ফেলছে।
পরিবেশ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, কুষ্টিয়ায় ৬০টির বেশি অটো রাইস মিল রয়েছে, এর মধ্যে ১০টির পরিবেশগত ছাড়পত্র নেই এবং অন্তত ২০ থেকে ৩০টির ছাড়পত্র নবায়ন করা হয়নি। প্রতিদিন প্রায় ১ হাজার ২০০ মণ ধান ভাঙানো একটি অটো রাইস মিল থেকে গড়ে অন্তত ৬০ বস্তা ছাই তৈরি হয়।
স্থানীয় কৃষক আব্দুর রশিদ বলেন, ‘ক্যানালের পানি দিয়েই আমরা চাষাবাদ করি। কিন্তু এই পানিতে ছাই ও বর্জ্য মেশায় ধানের ফলন কমে যাচ্ছে।’ রাইস মিল মালিকেরা অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেন, মিলগুলো স্থানীয় অর্থনীতিতে অবদান রাখছে।
কুষ্টিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাশিদুর রহমান বলেন, ‘বর্জ্য ফেলা বন্ধ করতে সংশ্লিষ্ট মিল মালিকদের নোটিশ দেওয়া হয়েছে। আইন লঙ্ঘনের প্রমাণ পেলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
এদিকে কুষ্টিয়া পরিবেশ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ইমদাদুল হক জানান, ‘১০ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটি প্রতিবেদন দেবে, সুপারিশের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনি সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’ এলাকাবাসী অবিলম্বে রাইস মিলগুলোর পরিবেশগত ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।