গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় অ্যানথ্রাক্সের আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। পাঁচ ইউনিয়নে নারী ও শিশুসহ অন্তত ৩৫ জন অ্যানথ্রাক্সের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে।
১২ সেপ্টেম্বর, বাছহাটি গ্রামে এক ব্যক্তি রোগাক্রান্ত একটি গরু জবাই করেন। সেই মাংস কাটায় অংশ নেন বেশ কয়েকজন নারী ও পুরুষ। এরপর ৪ জনের শরীরে ফোস্কা দেখা দেয়, এবং পরবর্তীতে আরও ১০ জন আক্রান্ত হন।
স্থানীয় যুবকরা জানান, আক্রান্তদের শরীরে বড় বড় ঠোসা উঠেছে। এক আক্রান্ত ব্যক্তি বলেন, ‘অ্যানথ্রাক্সে অনেকে আক্রান্ত হয়েছে। আমরা খুব কষ্টে জীবনযাপন করতেছি।’
চিকিৎসকরা জানাচ্ছেন, অ্যানথ্রাক্স অত্যন্ত সংক্রামক। আক্রান্ত গবাদিপশুর সংস্পর্শে এলে এটি মানুষের মধ্যে ছড়ায়। তবে সঠিক সময়ে চিকিৎসা নিলে রোগটি পুরোপুরি ভালো হয়।
গাইবান্ধার উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. কামরুল হাসান জানান, আক্রান্তদের বাসায় রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে যাতে অন্যদের মধ্যে এটি ছড়িয়ে না যায়। তিনি বলেন, ‘মানুষ থেকে মানুষে এ রোগ ছড়ায় না, তবে ক্ষতযুক্ত চামড়ায় আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে এলে সংক্রমণ হতে পারে।’
মেহেরপুরের গাংনী উপজেলায় গত ৯ মাসে ৪১২ জন অ্যানথ্রাক্সের চিকিৎসা নিয়েছেন। আক্রান্তদের বেশিরভাগই অসুস্থ গবাদি পশু থেকে সংক্রমিত হচ্ছেন। গাংনী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার মাসুদুর রহমান জানান, ‘আক্রান্ত ব্যক্তি যত দ্রুত হাসপাতালে আসেন, সঠিক চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব।’
অ্যানথ্রাক্সের বিস্তার ঠেকাতে গবেষকরা আক্রান্ত বা সন্দেহজনক পশুর সংস্পর্শ এড়িয়ে চলার এবং উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।