ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের ৩৫টি এলাকা ডেঙ্গুর উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে। এসব এলাকায় এডিসের লার্ভা পাওয়া যাচ্ছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য গুরুতর উদ্বেগের বিষয়। নগর কর্তৃপক্ষ জানায়, তারা বিশেষ অভিযান চালাচ্ছে, তবে নাগরিকদের নিজস্ব বাড়িঘর পরিষ্কার রাখতে হবে।
কীটতত্ত্ববিদদের মতে, যদি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আনা যায়, তবে অক্টোবরে ডেঙ্গুর প্রকোপ আরও ভয়াবহ হতে পারে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত দুই মাসে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা প্রায় ৪ গুণ বেড়ে গেছে এবং মৃত্যুর হার ৩ গুণের বেশি। সেপ্টেম্বরের ২৬ দিনে ৩৫ হাজারের বেশি ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এবং কমপক্ষে ১১৭ জন মারা গেছেন।
বর্তমান পরিস্থিতিতে সরকারের ৩ মাসের বিশেষ কর্মসূচি চলছে। তবে বিভিন্ন জায়গায় এডিসের লার্ভা এখনও পাওয়া যাচ্ছে। উত্তর ঢাকায় মিরপুর, মোহাম্মদপুর, শ্যামলী, মহাখালী, গুলশান, বাড্ডা, উত্তরা এবং দক্ষিণ ঢাকায় ধানমন্ডি, শাহবাগ, সেগুনবাগিচা, খিলগাঁও, লালবাগ, যাত্রাবাড়ীসহ ৩৫টি এলাকা ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান বলেন, অনেক জায়গায় ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ লার্ভা পাওয়া গেছে এবং সেখানে জরিমানা করা হয়েছে। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুস সালাম জানান, তারা জনগণকে সচেতন করতে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছেন এবং আইন প্রয়োগ আরও শক্তিশালী করার চেষ্টা করছেন।
কীটতত্ত্ববিদ ড. কবিরুল বাশার বলেন, সেপ্টেম্বরে ডেঙ্গুর সর্বোচ্চ প্রকোপ নয়, অক্টোবরে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে। তবে সঠিকভাবে ক্রাশ প্রোগ্রাম চললে পরিস্থিতি উন্নতির সম্ভাবনা রয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানান, তারা শুধু হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের তথ্য সংগ্রহ করে, বহির্বিভাগে চিকিৎসা নেওয়া রোগীদের তথ্য তাদের কাছে নেই।