মিরপুরের রাড্ডা ক্লিনিকে হামলার সময় পুলিশ নীরব থাকার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় নারী এমপি জান্নাত ফেরদৌস মিষ্টির মদদে কয়েকশ মুখোশধারী দুর্বৃত্ত তিন ঘণ্টা ধরে ক্লিনিকে ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়। হামলার পর পুলিশ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে, তবে ডিএমপি কমিশনার জানিয়েছেন, অভিযুক্ত যে দলেরই হোক, তাদের ছাড় দেওয়া হবে না।
হামলার দুই দিন পরও রাড্ডা ক্লিনিকে সমবায় দোকানদার সমিতির নামে দখলদারদের ব্যানার ঝুলছে। গত বৃহস্পতিবার রাতে ক্লিনিকটি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়। এটি ছিল অস্বচ্ছলদের চিকিৎসার জন্য একটি আশ্রয়স্থল। হামলাকারীরা ক্লিনিকের যন্ত্রপাতি লুট করে নিয়ে যায়।
স্থানীয় বিএনপি নেতারা অভিযোগ করেছেন যে, সমবায় দোকানদার সমিতির নামে পূর্বেও এ স্থানটি দখলের চেষ্টা করা হয়েছে। শাহ আলী থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোশারফ হোসেন মশু বলেন, 'লাখ লাখ বিএনপির কর্মী–সমর্থককে প্রশ্নবিদ্ধ করা হয়েছে।'
ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হামলায় প্রায় ২ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে এবং তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারের দাবি করেছেন। রাড্ডা ক্লিনিকের নির্বাহী পরিচালক নাসরিন আক্তার বলেন, 'আমাদের ভবনটা গুঁড়িয়ে দিয়েছে, আমরা হতবাক।'
শনিবার বিকেলে ডিএমপি কমিশনার ক্লিনিক পরিদর্শন করেন এবং থানার ১ কিলোমিটারের মধ্যে ঘটনার জন্য পুলিশের গাফিলতি খুঁজতে তদন্ত চলছে বলে জানান। তিনি বলেন, 'এখানে মামলা হয়েছে, আমরা অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা করছি।'
নারী এমপির সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। রাড্ডা ক্লিনিক অর্ধশতাব্দীর বেশি সময় ধরে সেবা দিয়ে আসছে এবং হামলার পরও শনিবার অস্থায়ী ক্যাম্প বসিয়ে টিকাদান কর্মসূচি চালানো হয়েছে।