রাজধানীর মিরপুর-১-এ অবস্থিত স্বল্পমূল্যে স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারী রাড্ডা ক্লিনিক সেন্টারে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় ৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) শাহ আলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহাঙ্গীর আলম এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
ওসি জাহাঙ্গীর আলম বলেন, "পুলিশ এই ধরনের ঘটনায় বিব্রত। হামলাকারীদের শনাক্ত করে গ্রেফতারের কাজ চলমান রয়েছে।" তিনি বলেন, সংসদ সদস্যের ইন্ধনে পুলিশ নিরব ভূমিকায় ছিল কিনা, সে বিষয়ে তদন্ত শেষে বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে।
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান বলেন, "রাড্ডা সেন্টারে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় দুষ্কৃতকারী যেই হোক, তারা দ্রুত গ্রেফতার হবে এবং আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, "রাড্ডা সেন্টারের মালিকানা নিয়ে যে গণ্ডগোল রয়েছে, সেটি আদালতে নির্ধারিত হবে।" তিনি জানান, এটি একটি এনজিও পরিচালিত মাতৃসেবাকেন্দ্র ছিল এবং এখানে টিকাদান কর্মসূচি চলত।
ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ হামলা-ভাঙচুরের ঘটনায় গতকাল মামলা দায়ের করেছে। শাহ আলী থানার এই মামলায় হানিফ মিয়া নামের একজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে, অজ্ঞাত আরও আড়াইশো জনকে আসামি করা হয়েছে।
ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ অভিযোগ করেছে, মুখোশ পরা অন্তত দুই শতাধিক ব্যক্তি নিরাপত্তাকর্মীদের জিম্মি করে স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে ঢুকে চিকিৎসা সরঞ্জাম, ওষুধ, সরকারি টিকা, নগদ টাকা ও গুরুত্বপূর্ণ সামগ্রী লুট করেছে। হামলাকারীরা ভারী যন্ত্রপাতি দিয়ে একটি পাকা ও তিনটি সেমিপাকা ভবন গুঁড়িয়ে দেয়, যার ফলে প্রায় দেড় কোটি টাকা ক্ষয়ক্ষতির দাবি করেছে কর্তৃপক্ষ।
হামলার পর ক্লিনিকের জায়গায় দুর্বৃত্তদের টাঙানো ‘সমমনা দোকানদার সমবায় সমিতি লিমিটেড’-এর সাইনবোর্ড নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।