গাড়ির ইঞ্জিন সচল রাখতে মানসম্মত ইঞ্জিন অয়েল ব্যবহারের গুরুত্ব থাকা সত্ত্বেও বর্তমানে বাজারে নকল ও ভেজাল পণ্যের ছড়াছড়ি দেখা যাচ্ছে। বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই) জানাচ্ছে, বাজারে বিক্রি হওয়া ইঞ্জিন অয়েলের ৩০ শতাংশই ভেজাল বা মানহীন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সস্তা ভেজাল লুব্রিকেন্ট গাড়ির ইঞ্জিন ও যন্ত্রপাতির ক্ষতি করছে। রাজধানীর বিভিন্ন দোকানে নিম্নমানের লুব্রিকেন্ট সহজেই পাওয়া যাচ্ছে, যা আসল পণ্যের তুলনায় ৫০ শতাংশ পর্যন্ত কম দামে বিক্রি হচ্ছে। এতে অনেক গাড়ি মালিক ও চালক আকৃষ্ট হচ্ছেন।
ভেজাল পণ্যগুলো আসল লুব্রিকেন্টের ব্যবহৃত বোতল বা জারে ভরে বিক্রি করা হচ্ছে, ফলে ক্রেতারা প্রতারিত হচ্ছেন। এছাড়া পোড়া মবিল ও কালো তেল থেকে তৈরি ভেজাল ইঞ্জিন অয়েলও বাজারে রয়েছে।
বিএসটিআই-এর উপ-পরিচালক (সিএম) কাওছার আহমেদ খান মন্তব্য করেন, 'ভেজাল লুব্রিকেন্টস প্রস্তুতকারকদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান চালানো হলেও মানহীন পণ্যের বেচাকেনা বন্ধ হচ্ছে না।'
ক্রেতা অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের (ক্যাব) সভাপতি এ এইচ এম সফিকুজ্জামান বলেন, 'উৎপাদন থেকে বিপণন পর্যন্ত প্রতিটি পর্যায়ে নজরদারি বাড়াতে হবে।'
একাধিক জরিপে দেখা গেছে, ভেজাল লুব্রিকেন্ট ব্যবহারে গাড়ির ইঞ্জিনের স্থায়িত্ব কমে যায় প্রায় ৫০ শতাংশ, এবং জ্বালানি খরচ বাড়ে অন্তত ১৫ শতাংশ। এর ফলে পরিবেশও মারাত্মকভাবে দূষিত হচ্ছে।