জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ভেনেজুয়েলার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজের অংশগ্রহণ নিয়ে দেশটির নাগরিকদের মধ্যে আপত্তি দেখা দিয়েছে। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকের আগে রদ্রিগেজের সফরকে কেন্দ্র করে বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়।
কারাকাসে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভে অংশ নিয়ে নুরিস মেদিনা বলেন, ‘নিউইয়র্কে জাতিসংঘের ওই অবৈধ ভারপ্রাপ্ত নারী প্রেসিডেন্টকে স্বাগত জানানোর বিষয়ে আমি পুরোপুরি একমত নই।’ গত ৩ জানুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করার পর ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নেন রদ্রিগেজ। বর্তমানে মাদুরো নিউইয়র্কে আটক রয়েছেন এবং তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগে বিচারপ্রক্রিয়া চলছে।
মাদুরোর আটকের পর রদ্রিগেজ শুরুতে সমালোচনা করেছিলেন, তবে পরে ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে তার সরকারের বিভিন্ন ধরনের যোগাযোগ হয়েছে। এর মধ্যে ভেনেজুয়েলার তেলসম্পদ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি চুক্তি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে রদ্রিগেজের নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধিদল আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সঙ্গে জ্বালানি ও ঋণ পুনর্গঠন নিয়ে আলোচনা করেছে।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া মারগট মোনাস্তেরিওস বলেন, ‘জানুয়ারির ৩ তারিখে সবচেয়ে খারাপ ব্যক্তিকে সরিয়ে দেওয়ার জন্য আমরা ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানাই। কিন্তু আপনি ৪০ চোরকে রেখে গেছেন।’ এর পাশাপাশি, রাফায়েল আজুয়াখে অভিযোগ করেন যে, রদ্রিগেজ জনগণের ভোটে নির্বাচিত হননি এবং তার নেতৃত্বে জনগণের অবস্থা আরও খারাপ হয়েছে।
রদ্রিগেজ ২১ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে পৌঁছান এবং জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে শান্তি ও আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি সম্মানের পক্ষে দেশটির অবস্থান তুলে ধরছেন। তার সফরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক, যা মাদুরোকে আটক করার পর দুই নেতার প্রথম সরাসরি সাক্ষাৎ।
এই সফর ভেনেজুয়েলার নতুন নেতৃত্বের আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উপস্থিতি তুলে ধরছে, অন্যদিকে দেশের ভেতরে তার বৈধতা নিয়ে বিরোধিতাও সামনে নিয়ে এসেছে।