বর্তমানে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। খুন, ধর্ষণ, চাঁদাবাজি এবং দখলবাজির মতো ঘটনা সমাজে আতঙ্ক সৃষ্টি করছে। গাজীপুরে রামিসার ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ড, রংপুরে চারজনের হত্যা এবং কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষিকার সন্তানের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা জনমনে চরম উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অপরাধীদের গ্রেপ্তারে সচেষ্ট হলেও জনগণের মনে প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে, “ঘটনার আগে কিছু করা যায় না কেন?” সরকারের লক্ষ্য হওয়া উচিত আইনশৃঙ্খলার ভয়ে অপরাধপ্রবণতা রোধ করা। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত প্রধান সাতটি অপরাধ শ্রেণিতে ২১,৭৫৬টি মামলা হয়েছে, যা আগের ছয় মাসের তুলনায় ২.৫ শতাংশ বৃদ্ধি।
জাতীয় সংসদে জানানো হয়, ১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৮ এপ্রিল পর্যন্ত ৪৬৪টি হত্যা ও ৬৬৬টি ধর্ষণ মামলা দায়ের হয়েছে। একই সময়ে সন্দেহভাজন ৬০৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শিশু নির্যাতন ও নিখোঁজের ঘটনা উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে ২০ মে পর্যন্ত ১১৮ শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে।
এছাড়া, পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্যমতে, দেশে ১৫,০০০ এর বেশি শিশু নিখোঁজ রয়েছে। ৮৭ শতাংশ শিশু উদ্ধার হলেও ২,০০০ এর মতো শিশু এখনও নিখোঁজ। প্রশাসন ও অভিভাবকদের যৌথভাবে দায়িত্ব পালন করা প্রয়োজন।
অভিভাবকদের উচিত সন্তানদের চলাফেরা এবং বন্ধু-বান্ধবের প্রতি নজর রাখা। অপরিচিত কারো প্রলোভনে না পড়া এবং জরুরি পরিস্থিতিতে অভিভাবকদের সাথে যোগাযোগের বিষয়টি শিশুদের শেখানো উচিত।
সরকারের উচিত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আরও কার্যকর ও প্রো-অ্যাক্টিভ করা। থানাগুলোকে নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। পুলিশিংয়ের আধুনিকায়ন প্রয়োজন, যাতে জনগণের আস্থা বৃদ্ধি পায়।
কমিউনিটি পুলিশিং ব্যবস্থা কার্যকর করতে হবে, যাতে জনগণ ও পুলিশের সমন্বয়ে আইনশৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়। বর্তমান পরিস্থিতিতে এই ব্যবস্থাকে নতুন করে ঢেলে সাজানো জরুরি।