মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
ব্রেকিং
অপরাধ

গাইবান্ধায় নেশার টাকার জন্য ১৩ মাসের শিশুকে বিক্রি, বাবা গ্রেপ্তার

গাইবান্ধায় নেশার টাকার জন্য ১৩ মাসের শিশুকে বিক্রির অভিযোগে বাবা হামিদুল মিয়াসহ ৪ জন গ্রেপ্তার।

গাইবান্ধায় নেশার টাকার জন্য ১৩ মাসের শিশুকে বিক্রি, বাবা গ্রেপ্তার

গাইবান্ধায় নেশার টাকার জন্য ১৩ মাস বয়সী কন্যাশিশুকে বিক্রির অভিযোগে বাবা হামিদুল মিয়াসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। পুলিশ শিশুটিকে উদ্ধার করে মায়ের কাছে হস্তান্তর করেছে।

পুলিশ সুপার মো. জসিম উদ্দিন সোমবার বিকেলে সংবাদ সম্মেলনে জানান, হামিদুল মিয়া ১৭ জুলাই বিস্কুট কিনে দেওয়ার কথা বলে শিশুটিকে নিয়ে বাড়ি থেকে বের হন এবং পরে আর ফিরে আসেননি। দুই দিন পর তিনি ফোনে স্ত্রী রুমানা আক্তারকে জানান, ১০ হাজার টাকা না দিলে শিশুটিকে বিক্রি করে দেওয়া হবে।

আর্থিক সংকটের কারণে রুমানা ওই টাকা দিতে পারেননি। পরে হামিদুল মোবাইল ফোন বন্ধ করে দেন। এই ঘটনার পর রুমানা আদালতে মামলা করেন এবং পুলিশের কাছে অভিযোগ দেন।

ডিবি পুলিশ শিশুটিকে উদ্ধারের জন্য অভিযান শুরু করে। রোববার গাইবান্ধা ও রংপুরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে প্রথমে হামিদুলকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর রংপুরের পীরগঞ্জ থেকে বাসের হেলপার মজিদ এবং গাইবান্ধার ফুলছড়ি থেকে মোছা. মোরশেদাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের জুলাইয়ে হামিদুলের সঙ্গে রুমানার বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই হামিদুল মাদকের টাকা জোগাড় করতে স্ত্রীকে নির্যাতন করতেন। সন্তান জন্মের পর পরিস্থিতির অবনতি হলে রুমানা বাবার বাড়িতে চলে যান।

পরিবারের অভিযোগ, মাদকের টাকা জোগাড় করতেই হামিদুল শিশুটিকে নিয়ে যান এবং পরে ৪০ হাজার টাকায় বিক্রি করেন। তবে হামিদুল পুরো টাকা পাননি; তিনি পেয়েছেন ৩১ হাজার টাকা।

রুমানা বেগম বলেন, ‘আজ আমার কোল ভরে গেল। যারা আমার স্বামীর কাছ থেকে আমার সন্তানকে কিনে নিয়েছিলেন, তাদের বিরুদ্ধে আমার কোনো অভিযোগ নেই।’

পুলিশ সুপার মো. জসিম উদ্দিন জানান, আসামিদের বিরুদ্ধে আইনগত প্রক্রিয়া শেষে আদালতে হাজির করা হবে।

বিজ্ঞাপন