সরকার জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির ঘোষণা দেওয়ার পর বেসরকারি কনটেইনার ডিপো মালিকদের সংগঠন 'বিকডা' ৯ দশমিক ৮৫ শতাংশ ফুয়েল সারচার্জ আরোপের ঘোষণা করেছে। সংগঠনের কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, এটি বাড়তি মাসুল নয়, বরং জ্বালানির মূল্য সমন্বয়।
তবে, এই সিদ্ধান্তের ফলে ক্ষুব্ধ ব্যবহারকারীরা কোনো আলোচনা ছাড়াই দাম বাড়ানোর বিষয়টি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে ২১টি বেসরকারি কনটেইনার ডিপো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে, যেখানে শতভাগ রপ্তানিপণ্য এবং ২৫ শতাংশ আমদানি পণ্য হ্যান্ডলিং হয়।
প্রতিদিন এই ডিপোগুলোতে অভ্যন্তরীণ যন্ত্রপাতি ও পরিবহণ পরিচালনায় গড়ে ৮০ হাজার লিটার ডিজেল প্রয়োজন হয়। ডিপো মালিকদের মতে, ডিজেলের দাম বৃদ্ধির কারণে পরিচালন ব্যয় ১৭ শতাংশ বেড়ে গেছে।
'বিকডা'র সচিব রুহুল আমিন শিকদার বলেন, "এটি কোনো মূল্যবৃদ্ধি নয়, বরং জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণে চার্জের সমন্বয়।"
বর্তমান বিশ্ব অর্থনীতির সংকট, ইরান-ইউক্রেন যুদ্ধ এবং লোহিত সাগর ও হরমুজ প্রণালীর সংকটের কারণে দেশের আমদানি-রপ্তানি খাত ইতোমধ্যেই চাপের মধ্যে রয়েছে।
সিএন্ডএফ এজেন্ট কাজী মাহমুদ ইমাম বলেন, "এক্সপোর্টাররা চাপের মধ্যে আছেন, কারণ সঠিক সময়ে তাদের পণ্য আসছে না। যদি সাড়ে ৮ শতাংশ চার্জ বেশি দিতে হয়, তাহলে এর বড় প্রভাব পড়বে।"
বিজিএমইএ-এর সাবেক পরিচালক অঞ্জন শেখর দাশ উল্লেখ করেন, "এটার প্রভাব সাধারণ মানুষের ওপর পড়ছে এবং দেশের অর্থনীতির ওপরও সুদূরপ্রসারী প্রভাব রয়েছে।" বাড়তি মাসুলের ফলে ভোক্তা পর্যায়ে পণ্যের দাম বাড়ার পাশাপাশি তৈরি পোশাক খাতে প্রতিযোগী দেশগুলোর কাছে অর্ডার হারানোর আশঙ্কা করছে বিজিএমইএ।