বাংলাদেশের বাজারে সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম লিটারে ২০ টাকা বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে জ্বালানি বিভাগ। গতকাল রোববার বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি) এই দাম বৃদ্ধি করে। নতুন দাম অনুযায়ী, অকটেন বিক্রি হচ্ছে ১৬৫ টাকা, ডিজেল ১৩৫ টাকা, পেট্রোল ১৬০ টাকা এবং কেরোসিন ১৫৫ টাকায়।
জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির ফলে বাজারে মূল্যস্ফীতি আরেক দফা বৃদ্ধির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিপিসি জানায়, সরকার ভর্তুকি কমানোর জন্য এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলার পর বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম অস্থির হয়ে পড়ে।
বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়ার কারণে দেশের বাজারে কালোবাজারি ও অবৈধ মজুতের ঘটনা ঘটছে। পেট্রোল পাম্পগুলোতে জ্বালানি কিনতে ভোগান্তিতে পড়ছেন লাখো গ্রাহক। এপ্রিলের মাঝামাঝি সরকার তেলের দাম বাড়ানোর পর ডিজেল ও কেরোসিনের দাম ৫ মাস অপরিবর্তিত ছিল।
জুনে পেট্রল অকটেনের দাম ৫ টাকা বাড়ানো হয়। সম্প্রতি ইয়েমেনের হুতিরা বাব আল মান্দেব প্রণালীতে নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর বিশ্ববাজারে তেলের দাম আরো বাড়ে, অপরিশোধিত তেলের ব্যারেল ১০৫ ডলার ছাড়ায়।
রোববার রাতে জ্বালানি বিভাগের প্রজ্ঞাপনে নতুন দাম ঘোষণা করা হয়। বিপিসি সূত্রে জানা গেছে, বিশ্ববাজারে দাম বৃদ্ধির কারণে প্রতিদিন দেড়শ কোটি টাকা ভর্তুকি গুণতে হচ্ছিল।
জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির ফলে পরিবহন ও উৎপাদনসহ সব পর্যায়ে ভোক্তার খরচ বাড়বে, যা বাজারে মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধির শঙ্কা তৈরি করেছে, জানাচ্ছেন বিশ্লেষকরা।