বাংলাদেশে গত দুই বছরে ইলিশ উৎপাদন ১২ শতাংশের বেশি কমেছে। গবেষকরা এ পরিস্থিতির জন্য গভীর সাগরে সোনার স্ক্যানার দিয়ে নির্বিচারে মা ইলিশ ধরা এবং নদী দূষণকে দায়ী করেছেন।
গবেষকদের মতে, যদি দ্রুত উদ্যোগ না নেওয়া হয়, তাহলে ইলিশের উৎপাদন অর্ধেকে নেমে আসবে এবং চাহিদা মেটাতে আমদানি নির্ভরতা বাড়বে। ইলিশের উৎপাদন গত ২০১৬ সালে প্রায় পৌনে ২ লাখ টন থেকে ২০২২ সালে সর্বোচ্চ প্রায় পৌনে ৬ লাখ টনে পৌঁছেছিল। তবে তারপর থেকেই উৎপাদন কমছে।
গভীর সাগরে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার বেড়ে যাওয়ার ফলে মা ইলিশের ঝাঁক সোনার স্ক্যানার দিয়ে ধরা হচ্ছে, যা ইলিশের বাঁচার সুযোগ কমাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. নিয়ামুল নাসের বলেন, "ইলিশ আমাদের জাতীয় সম্পদ। কিন্তু এটার ব্যবস্থাপনা নতুন করে করতে হবে।"
গত বছর মিয়ানমার থেকে ১,০২৫ টন ইলিশ আমদানি করা হয়েছিল, আর এবছর ভারত থেকে প্রায় পাঁচ লাখ কেজি ইলিশ আমদানি হয়েছে। গবেষক ড. আনিসুর রহমান জানান, "কমার যে ধারা, এটা অব্যাহত থাকলে মারাত্মক সংকেত আসছে।"
গবেষকরা বলছেন, সাগর-নদীতে এখন ডালা গোণ বা মরা গোণ চলছে। ২৪ সেপ্টেম্বর থেকে ৭ অক্টোবর পর্যন্ত ভরা গোণে নদীতে ইলিশের মজুদ বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।