বাংলাদেশের ইলিশ বাজারে ক্রমবর্ধমান সংকট দেখা দিয়েছে। বিশ্বের সবচেয়ে বেশি ইলিশ উৎপাদনকারী দেশ হিসেবে পরিচিত বাংলাদেশে বর্তমানে ইলিশ সোনার হরিণে পরিণত হয়েছে। এ অবস্থায় ভারত থেকে ইলিশ আমদানির প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
২০২৩-২৪ অর্থবছরে দেশের ইলিশ উৎপাদন কমে দাঁড়িয়েছে ৫ লাখ ২৯ হাজার টনে, যা ২০২২-২৩ অর্থবছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্য হ্রাস। ব্যবসায়ীদের মতে, এবারের উৎপাদন গত বছরের তুলনায় ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ কম হতে পারে।
ইলিশ উৎপাদনের সংকটের পেছনে রয়েছে কয়েকটি কারণ। গবেষকদের মতে, নিষিদ্ধ ছোট ফাঁসের জাল, অতিরিক্ত আহরণ, নদী ও সাগরের দূষণ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব এই সংকটের জন্য দায়ী।
চাঁদপুরের আড়তের তথ্য অনুযায়ী, তিন বছর আগে সেখানে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ২ হাজার মণ ইলিশ পাওয়া যেত, কিন্তু বর্তমানে তা নেমে এসেছে আড়াই শ মণে। এর ফলে ইলিশের দামও বেড়েছে, ২০২০ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে বার্ষিক গড় দাম প্রায় ৬৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
ভারত থেকে ইলিশ আমদানির প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে প্রায় ৩ লাখ ৫৩ হাজার কেজি ইলিশ এসেছে। এর মধ্যে আগস্ট মাসেই এসেছে ৩ লাখ ২৩ হাজার কেজির বেশি।
বাংলাদেশের বাজারে ভারত থেকে আসা ইলিশের দাম স্থানীয় ইলিশের তুলনায় অনেক কম। স্থানীয় বাজারে ১ কেজি ইলিশের দাম ৩ হাজার ৩০০ থেকে ৩ হাজার ৪০০ টাকা, যেখানে আমদানি করা মাছ পাওয়া যাচ্ছে ১ হাজার ৪০০ থেকে ১ হাজার ৮০০ টাকায়।
বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরা গুজরাটের ইলিশ আমদানি করে মূলত মাছের ডিম সংগ্রহের উদ্দেশ্যে। এই ডিম প্রক্রিয়াজাত করে বিদেশে রপ্তানি করা হচ্ছে। তবে স্থানীয় বাজারেও কিছু মাছ বিক্রি হচ্ছে বলে জানা গেছে।
বর্তমানে বাংলাদেশের ইলিশ উৎপাদন কমছে, যা দেশের বাজারে ঘাটতি তৈরি করছে। এর ফলে বিদেশ থেকে মাছ আমদানি বাড়ছে, যা সাময়িকভাবে সমস্যার সমাধান করতে পারে। তবে ইলিশের আবাস ও পরিবেশ সুরক্ষার জন্য কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।